সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় মে দিবসে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‌্যালি  অধিকার বঞ্চিত বাংলাদেশের চা শ্রমিকরাসাতক্ষীরার উপকূলে এখনো বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিকরাসুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই বোতলজাত সায়াবিন তেল খেতে হবে– সাতক্ষীরায় এডভোকেসি সভায় বক্তারাদেবহাটায় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে ৪৮ ক্যারেট ক্যামিক্যাল মিশ্রিত আম বিনষ্ট‘আমাদের দুর্ভাগ্য একজন দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ এখনও রাষ্ট্রপতি’বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিমকে তাড়াতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে  হয়রানির অভিযোগকালীগঞ্জের নলতায় সড়ক ও জনপদ থেকে উচ্ছেদের পরেও পুনরায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িকসাতক্ষীরায় তিন দিনব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনসারা দেশে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস: নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

সাতক্ষীরায় মে দিবসে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বর্ণাঢ্য র‌্যালি  

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে ১মে সকালে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

‘শ্রমিকরা আল্লাহর বন্ধু ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষ অংশ নেন। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টায় শহরের তুফান কোম্পানির মোড় থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে এক বিশাল সমাবেশে মিলিত হয়। জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারী মো. আব্দুল গফফারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক সুজায়েত আলী বলেন, “পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিকের ঘাম ঝরলেও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হয় না। শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, কোনো শ্রমিক যেন কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। রাস্তায় ইজিবাইক ও ভ্যানচালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের ওপর সব ধরনের চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা সুন্দরবন টেস্টাইল মিল পুনরায় চালুর মাধ্যমে সাতক্ষীরার মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দাবি জানান তিনি। শ্রমিকরা সমাজের চালিকাশক্তি। তাদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। — অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী । সমাবেশে সংগঠনের নির্বাহী সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্য মাওলানা রবিউল ইসলাম, পৌর শাখার সভাপতি মেহবুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম হাফিজ এবং শ্রমিক নেতা ব্যাংকার ফিরোজ আউয়ালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গঠন এবং শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিত প্রতিরোধের ডাক দেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
অধিকার বঞ্চিত বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা

অনলাইন ডেস্ক : শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের একটি চা বাগান সমৃদ্ধ অঞ্চল, যা ঢাকা থেকে ১৮৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। এটি তার অন্তহীন সৌন্দর্য এবং সবুজের জন্য পরিচিত।

সেই সবুজের মাঝে গত কয়েক বছর ধরে ‘মিনি হাজরা’ নামে এক নারী চা বাগানে পাতা তোলার কাজ করছেন। রোদ, বৃষ্টি আর ঝড় উপেক্ষা করে তারা এই বাগানে কাজ করেন এই আশায় যে—একদিন তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

মিনি হাজরা তার কর্মস্থলে দাঁড়িয়ে বলেন, “শ্রীমঙ্গলের একটি চা বাগানে কোম্পানির জন্য পাতা তুলে আমি সপ্তাহে মাত্র ‘১৩৩০ টাকা’ পাই। এই টাকা দিয়ে আমি আমার মৌলিক চাহিদাগুলোও পূরণ করতে পারি না; আমার পরিবারকে প্রতিদিন অনেক সংগ্রাম করতে হয়। তবে কোম্পানি আমাদের একটি ঘর দিয়েছে, যেখানে আমি আমার ছেলে, পুত্রবধূ এবং মেয়েদের নিয়ে থাকি।”

মিনি হাজরার মতো বাংলাদেশের চা বাগানগুলোর অনেক শ্রমিকই এখনও তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। দেশের চা বাগানগুলোতে প্রায় ১,১৭,০০০ শ্রমিক কাজ করছেন। এছাড়াও আরও ৫৬,০০০ শ্রমিক রয়েছেন যারা অস্থায়ী হিসেবে কাজ করেন, যাদের কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি নেই। যারা চা পাতা সংগ্রহ করেন, তাদের প্রায় সবাই নারী। এই শ্রমিকদের প্রায় ‘৯৫ শতাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী’ এবং তারা বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও উৎসব পালন করেন।

গত বছর বাংলাদেশের চা বাগানগুলোতে প্রায় ৯ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। দেশে বার্ষিক চায়ের চাহিদা ১০ কোটি কেজি, যা উৎপাদনের চেয়ে বেশি। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ প্রতি বছর ১০ লাখ কেজি চা রপ্তানি করে। তবে চা শিল্প এখন কিছুটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; অনেক শ্রমিক কাজ পাচ্ছেন না এবং অনেক জায়গায় চা উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

চা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণ হলো চা উৎপাদনের খরচ অনেক বেশি, কিন্তু বিক্রয় মূল্য অনেক কম, যা এই শিল্পকে অলাভজনক করে তুলেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষে মে দিবস পালন করছেন।

মিনি হাজরা আরও যোগ করেন, “আমার দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী, একটি পরিবার থেকে মাত্র একজন চা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে পারেন। যদি সেই ব্যক্তি মারা যান বা অবসরে যান, তবেই আমার ছেলে বা পুত্রবধূ সেই কাজ পেতে পারেন। তাই মাত্র একজনের আয়ে আমাকে পুরো পরিবার চালাতে হয়, যা অত্যন্ত কঠিন।”

শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার জন্য কোম্পানির প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে, কিন্তু আমার বাচ্চারা সেখানে বেশিদিন পড়াশোনা করতে পারে না; তারা সাধারণত ঝরে পড়ে। চিকিৎসার জন্য কোম্পানি একটি ছোট ক্লিনিক করেছে, কিন্তু সেখান থেকে শুধু প্যারাসিটামলের মতো সাধারণ ওষুধ দেওয়া হয়। তাই আমাদের ভাগ্যের আসলে তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।”

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ১৮৫৪ সালে বাংলাদেশের এই পূর্বাঞ্চলে (যা তখন অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল) প্রথম চা চাষ শুরু হয়। অনেক শ্রমিক এখানে কাজ করতে আসেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই ঘন জঙ্গলে কাজ করার সময় বাঘ, চিতাবাঘ এবং অন্যান্য বন্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পঙ্কজ অ্যালয়সিয়াস কন্দ বলেন, “চা শ্রমিকরা ভালো অবস্থায় নেই। তারা মৌলিক অধিকার এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। যার প্রধান কারণ তাদের মজুরি অত্যন্ত কম। আয়ের পরিমাণ কম হওয়ায় তারা তাদের পরিবারের খরচ চালাতে পারেন না এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করতে পারেন না।”

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা পরেশ কালেন্দি বলেন, “চা শ্রমিকদের সংকট অন্য শ্রমিকদের থেকে ভিন্ন। অন্য শিল্পে শ্রমিকরা বিল্ডিংয়ের নিচে কাজ করেন। চা শ্রমিকরা কাজ করেন খোলা আকাশের নিচে। চা শ্রমিকদের কোনও ভূমি নেই। তারা কোম্পানির ডরমেটরিতে গাদাগাদি করে থাকেন। তাদের কোনও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় চাকুরির আবেদন করতে পারেন না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চা শ্রমিকরা বঞ্চিত।”

চা শ্রমিক নেতা বিজয় হাজরা বলেন, “চা শ্রমিকরা তাদের জীবনযাত্রায় বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং চা শিল্প একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের কারণ বুঝতে এবং শ্রমিকরা কেন তাদের অধিকার পাচ্ছে না তা জানতে সরকারের উচিত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা। যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া, কারণ চা শিল্প আমাদের দেশের একটি মূল্যবান খাত।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরার উপকূলে এখনো বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি : ২০০৬ সালে দেশে সমান মজুরি আইন পাস হলেও দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরেও সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে তার বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়নি। একই সময় ও সমপরিমাণ কাজ করেও পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় কম মজুরি পাচ্ছেন নারী শ্রমিকরা। ফলে ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হয়ে জীবিকা নির্বাহে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের।

সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরা কাঁকড়ার খামার, মাছের ঘের, নদীতে রেণু আহরণ, সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা, রাজমিস্ত্রির সহকারী, মাটিকাটা, গ্রামীণ রাস্তানির্মাণ ও সংস্কার, কৃষিকাজ করেন। তবে এসব নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে সফটশেল কাঁকড়া চাষ। এই খাতকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান, যেখানে শ্রমিকদের একটি বড় অংশই নারী।
কাঁকড়া খামারে খাবার প্রদান, কাটিং, শেল সংগ্রহ, বাছাই ও পরিষ্কারসহ নানা কাজে পুরুষদের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করছেন নারীরা। প্রতিদিন নির্ধারিত সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করলেও মজুরির ক্ষেত্রে রয়ে গেছে স্পষ্ট বৈষম্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই কাজের জন্য পুরুষ শ্রমিক যেখানে ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পান, সেখানে নারী শ্রমিকদের দেওয়া হয় প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকার নারী শ্রমিক সালমা খাতুন বলেন,আমি একটি কাঁকড়ার খামারে কাজ করি। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। মাসিক বেতন সাড়ে ৭ হাজার টাকা। আমার সঙ্গে একই কাজ করে একজন পুরুষ সহকর্মী বেতন পান ৯ হাজার টাকা। খামারের অনেক কঠিন কাজ আমি করি। বাকিরা আমার চেয়ে সহজ কাজ করে কিন্তু পুরুষ হওয়ায় তাদের বেতন বেশি। বার বার বেতন বাড়াতে বললেও কাজ হয় না।

শ্রমিক সুফিয়া বেগম জানান,আমি ধান কাটার কাজ করি। কাজে কোনো কমতি রাখি না, তারপরও আমাদের মূল্যায়ন কম। সমান মজুরি পেলে জীবনটা একটু স্বস্তির হতো। এক বেলা কাজ করলে ৫০০ টাকা সেখানে পুরুষ পায় ৮০০ টাকা। তাদের থেকে আমরা কাজ কোনো তো কম নেই পুরুষ ও যে কাজ করে আমরা ও সেই একই কাজ করি।

স্বামী-স্ত্রী একসাথে কাজ করা শ্রমিক কামরুল মল্লিক বলেন, আমি আর আমার স্ত্রী প্রতিদিন একসাথে রাস্তার ইটের কাজ করি । সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একই কাজ করি, পরিশ্রমও সমান। কিন্তু মজুরির সময় দেখি আমার স্ত্রী আমার চেয়ে কম টাকা পায়। এটা একেবারেই অন্যায়। আমরা চাই, নারী-পুরুষ ভেদাভেদ না করে সমান কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করা হোক।

শুধু কাঁকড়া শিল্পেই নয়, মাটি কাটা, কৃষিকাজ ও ইটের ভাটাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নারীরা সমান কাজ করেও কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলার সিসিডিবি’র উপজেলা কো-অর্ডিনেটর স্টিভ রায় রুপন বলেন,
নারীরা শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বৈষম্য দূর করতে হলে শুধু সচেতনতা নয়, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।সমান কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করা একটি মৌলিক অধিকার। স্থানীয় প্রশাসন, মালিকপক্ষ ও সচেতন মহলের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিস্ আফরোজা আক্তার বলেন,শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক সনদ অনুযায়ী নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নারীদের সাথে বৈষম্য করছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে কাঁকড়া শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলেও নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বৈষম্য দ্রুত দূর করা না গেলে সম্ভাবনাময় এই খাত তার পূর্ণতা পাবে না।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই বোতলজাত সায়াবিন তেল খেতে হবে– সাতক্ষীরায় এডভোকেসি সভায় বক্তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় খোলা ভোজ্যতেল বিক্রয় বন্ধের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের ভূমিকা সংক্রান্ত এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এডভোকেসি সভায় সভাপতিত্ব করেন, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব।

মূখ্য উপস্থাপক ছিলেন, ন্যাশনাল হার্ড ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর কনসালটেন্ট এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহা: ইফতিখার।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে এডভোকেসি সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডা: সুমনা, জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারী নুরুল হুদা, জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান। এছাড়া জনপ্রতিনিধি ব্যবসায়ী, শিক্ষক, পুরোহিতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, খোলা ভোজ্যতেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এতে ভেজাল মেশানোর উচ্চ সম্ভাবনা থাকে এবং ভিটামিন ‘এ’ থাকে না বললেই চলে। ড্রামের খোলা তেল ব্যবহার করলে নন-ফুড গ্রেডেড প্লাস্টিকের বিষক্রিয়া, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা, রাতকানা ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এই তেল থেকে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ক্ষতি হয়। বর্তমানে অনেকেই সরিষার তেল খাওয়া শুরু করেছেন। কিন্তু তরকারিতে সরিষার তেল খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত সরিষার তেল সেবন হৃদপেশিতে চর্বি জমাতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদে হার্টের ক্ষতি করতে পারে। এর তীব্র ঝাঁঝালো উপাদান পরিপাকতন্ত্রে জ্বালাপোড়া, পেট ব্যথা বা ডায়রিয়ার কারন হতে পারে। শিশুদের কোমল ত্বকে অ্যালার্জি, র‌্যাশ, জ্বালাপোড়া এমনকি ফোসকা সৃষ্টি করতে পারে। তুলনামূলকভাবে বোতলজাত সয়াবিন তেলে ক্ষতির পরিমান কম। যে কারনে সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই আমাদের বোতলজাত বা প্যাকেটজাত সায়াবিন তেল খেতে হবে। খোলা ভোজ্যতেল বর্জন করতে হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে ৪৮ ক্যারেট ক্যামিক্যাল মিশ্রিত আম বিনষ্ট

দেবহাটা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার দেবহাটায় ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ক্যামিক্যাল মিশ্রিত ৪৮ ক্যারেট আম বিনষ্ট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে দেবহাটা ফুটবল মাঠে জব্দকৃত এসব আম ধ্বংস করা হয়।

জানা যায়, গত ৫-৬ দিন আগে উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের গাজীরহাট এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ৪৮ ক্যারেট আম জব্দ করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান। আমগুলোতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে সেগুলো উপজেলা গুদামে সংরক্ষণ করে পরীক্ষা করা হয়।

পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পরীক্ষার মাধ্যমে আমগুলোতে ক্যামিক্যাল মিশ্রণের প্রমাণ পান। এর ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার নির্দেশনায় জব্দকৃত আম বিনষ্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এসময় দেবহাটার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কালীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাইনুল ইসলাম খানের উপস্থিতিতে ফুটবল মাঠে আমগুলো ধ্বংস করা হয়।
বিনষ্ট কার্যক্রমের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর. কে. বাপ্পা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
‘আমাদের দুর্ভাগ্য একজন দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ এখনও রাষ্ট্রপতি’

অনলাইন ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এখনও চেয়ারে বহাল থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণহত্যার সময় তার (রাষ্ট্রপতি) ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, একজন দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতির কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।”

পেশাগত জীবনে মো. সাহাবুদ্দিনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, “তাকে তিনটি লক্ষ্য দিয়ে দুদকের কমিশনার করা হয়। এর এক নম্বর হচ্ছে, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের নিশ্চিত করা। দুই নম্বর হচ্ছে, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনশিট দেওয়া। তিন নম্বর হচ্ছে, ফখরুদ্দিন-মইনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলা বাতিল করা। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনও মেনে নিচ্ছে।”

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এস আলমের হাতে ইসলামী ব্যাংককে তুলে দেওয়ার কারিগর। এস আলম দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছিল।”

রাষ্ট্রপতির কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়া প্রসঙ্গে সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ বলেন, “তখনকার সময়, আর বর্তমান সময় এক নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের সামনে দুইটা অপশন ছিল। আমরা বলেছিলাম, জাতীয় সরকার করতে হবে। সেই প্রস্তাব বিএনপি নাকচ করে দিয়েছে। আরেকটা অপশন ছিল, ক্ষমতা আর্মির হাতে তুলে দেওয়া। যদি আমরা সেই দিকে আগাতাম আজকে তারা (সরকারি দল) এখানে বসতে পারতাম কি না সেটা সন্দেহ আছে।”

সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, দেশের স্থিতিশীলার স্বার্থে তাঁরা সে সময় সরকারে গিয়েছিলেন। এখন নির্বাচিত সরকার। চাইলে বিএনপি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে। বিএনপিতে সে ধরনের যোগ্য ও আস্থাভাজন লোক রয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করা হয়েছে। গাধাকে দিয়ে হাল চাষ করিয়ে কোনো ‘বাহাদুরি নেই’। এটি সরকারের দেউলিয়াত্ব।

জুলাই জাতীয় সনদকে অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে বিএনপি এবং এই সনদকে দলীয় ইশতেহারে পরিণত করে এর মাহাত্ম্য কলুষিত করেছে বলে মন্তব‌্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফসলকে একটা নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে। সনদে লেখা হয়েছে- কোনো দল নির্বাচনে জিতলে তাদের ইশতেহার অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। তাহলে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন কী? বিএনপি জুলাই সনদকে প্রতারণার দলিলে পরিণত করেছে।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ যেমন বাহাত্তরের সংবিধানকে দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছিল, একইভাবে বিএনপিও এখন জুলাই সনদকে ব্যবহার করছে। জুলাই গণভোট একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও গণরায় ছিল। সেই রায় অনুযায়ী দ্রুত সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন করা উচিত। কিন্তু বিএনপি এখন সংস্কারের পথ থেকে সরে গিয়ে কেবল নির্বাচনের ইশতেহারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।”

দেশের রাজনীতিতে ‘সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি’- এই সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও সংসদে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে ভাগ থাকবে এটি মানুষ প্রত্যাশা করে না।”

তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের রাজনীতি বিগত ৫০ বছর ধরে চলছে। কিন্তু এর সমাধান কেন করতে পারেনি। বিএনপি কি দায় নেবে না, ২৯ বছর জামায়াতের সঙ্গে রাজনীতি করেছে। এখন সবাই বলে- সাথে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি। এর মীমাংসা করার দায়িত্ব ছিল বড় দলগুলোর।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, “সামনের দিকে এগিয়ে যেতে ইতিহাসের এই বির্তক আমাদেরকে সমাধান করতে হবে। সব পক্ষকেই এটির জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো দেশের ষড়যন্ত্র না, আবার মুক্তিযুদ্ধের নাম করে এ দেশে যে লুটপাট, ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে সেটাও ভোলা যাবো না।”

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ফাউন্ডেশন, এটি নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল মুক্তিযুদ্ধেরই নবায়ন। আমাদের উচিত ইতিহাসের এই বিতর্ক একপাশে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। মুক্তিযুদ্ধের নাম করে বা পক্ষ-বিপক্ষ কার্ড খেলে জনগণকে আর ভাগ করা যাবে না।”

বর্তমান সংসদ সদস্যদের ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। যার অধিকাংশই সরকারি দলের এবং তারা বড় মাপের ঋণখেলাপি বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

এই বিপুল পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিল করার সুবিধা দিতেই একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

টিআইবির দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বর্তমান সরকারি দলের যারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ ঋণগ্রস্ত। সংসদ সদস্যদের ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে। নির্বাচনের আগে তারা কিছু টাকা জমা দিয়ে এগুলো পুনঃতফসিল করে নিয়েছে। আর বর্তমান গভর্নর এই পুনঃতফসিল কাজেই এক্সপার্ট। সেজন্যই তাকে এই পদে বসানো হয়েছে।”

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে যাতে হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া যায়। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক খাতে সাধারণ মানুষের আর কোনো আস্থা নেই বলেও দাবি করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।

নাহিদ বলেন, “৯০ এর গণঅভ্যুত্থান আর ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান এক নয়। এই আন্দোলনে রাজনৈতিক দলের নেতারা পেছনে ছিলেন আর সামনে ছিলেন সাধারণ মানুষ ও ছাত্ররা। জুলাই আন্দোলন কোনো দলের একক আন্দোলন নয়।”

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “১৯৭১ এর পর ভারত বাংলাদেশকে করদ রাজ্য করতে চেয়েছে। সীমান্তে হত্যা হচ্ছে, বাংলাভাষী মুসলমানদের তারা বাংলাদেশি বলে পুশইন করছে। বাংলাদেশে যে ফ্যাসিবাদ তাকে সমর্থন জানিয়েছে ভারত। ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ, কিন্তু সাম্য ও মর্যাদার ভিত্তিতে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

জামুকা আইন সংশোধন করে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে মুজিব বাহিনীকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “মুজিব বাহিনীর সদস্যদের যুক্ত করে অতীতে বহু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেওয়া হয়েছিল। তারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করে দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগ বাদে অন্য পক্ষের লোকদের হত্যা করেছে। বর্তমান আইনে মুজিব বাহিনী আর মুক্তিযোদ্ধা নয়। কিন্তু এখনো কেউ কেউ নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এ জায়গায় স্পষ্টতা আনা দরকার।”

দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি সংসদ সদস্যদের প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। কয়েকজন সংসদ সদস্যের ঋণের পরিমাণ ১৭০০ কোটি, ৭৬৫ কোটি, ৬৭৯ কোটি, ৬২১ কোটি, ২০১ কোটি, ১৮২ কোটি ও ৯৭ কোটি টাকার অঙ্ক উল্লেখ করেন। তবে নাম বলেননি। পরের সেশনে নাম বলবেন বলেও ঘোষণা দেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ। তার দাবি, দুই মাসে বিএনপির হাতে ৩১ জন খুন হয়েছে, ১৪টি ধর্ষণ, ৮৩টি চাঁদাবাজি ও ১৫৪টি হামলার খবর এসেছে। কিন্তু সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের শাহবাগ থানার সামনে মারধর এবং মামলা না নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তার ভাষায়, থানার ভেতরে ঢুকে ওসির কক্ষে ডাকসুর দুই নির্বাচিত প্রতিনিধির ওপরও হামলা হয়েছে।

মাজারে হামলা নিয়েও উদ্বেগ জানান নাহিদ ইসলাম। কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা করে একজনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ধর্মীয় বিতর্কে আমরা ঢুকব না। তবে আইনের শাসনের প্রশ্নে এ সব ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়।”

কৃষকদের ধান কেনার দামের প্রসঙ্গ টেনে ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, “সরকার কৃষি কার্ড দিয়েছে, যা প্রশংসনীয়। কিন্তু গত বছরের দামে এবারও কৃষকের ধান কেনা হলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে কৃষক লোকসানে পড়বেন।”

জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়েও তিনি আইনমন্ত্রীর কাছ থেকে সংসদে নিয়মিত ব্রিফিং চান। একই সঙ্গে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং বর্তমান সরকার আরও বৃদ্ধি করবে আশা প্রকাশ করেন নাহিদ।

চাকরি ও কর্মসংস্থান নিয়ে নাহিদ বলেন, “আন্দোলনের শুরুই হয়েছিল চাকরির দাবিতে। তাই আর্থিক খাতের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, বিনিয়োগ আনতে হবে এবং সরকারি চাকরিতে স্বজনপ্রীতি-দুর্নীতি একদম বন্ধ করতে হবে।”

বিরোধী দল কীভাবে কথা বলবে, তা সরকার শিখিয়ে দিতে পারে না মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিরোধী দল সরকারের ‘প্রেসক্রিপশন’ অনুযায়ী বিরোধিতা করবে না। বিরোধী দল বিরোধিতা করবে, সমালোচনা করবে, জনগণই ঠিক করবে বিরোধী দলকে কতটা সমর্থন দেবে।”

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, “খালেদা জিয়া গ্রেপ্তারের পরদিন তার বাবাও রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। মায়ের সঙ্গে থানা, আদালত ও কারাগারে ঘুরেছি। আমার এই অভিজ্ঞতা ফ্যাসিবাদবিরোধী লাখ লাখ মানুষের রয়েছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মনে করেছি দায় রয়েছে। আমার সামনে একজন স্বৈরশাসক থাকবে তা মেনে নিতে পারিনি।”

নিজের নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১১ এর কথা তুলে নাহিদ বলেন, “ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১১ এর মধ্যেও তেমন বৈষম্য আছে। আশা করি এই বৈষম্য দূর হবে। আমার আসনে নানা সমস্যা। আশা করি আমার এলাকার প্রতি বিরূপ কোনো মনোভাব তৈরি যেন না হয়।”

দীর্ঘ বক্তব্যের একেবারে শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, “সংসদের প্রথম অধিবেশন দেখে আমি হতাশ হয়েছি।”

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, “সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের সদস্যরা অতিরিক্ত স্তূতি করেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে বাতিল করা হয়েছে, গণভোটকে অস্বীকার করা হয়েছে।
আমি আশা করব, আমাদের এই হতাশা অতি দ্রুতই শেষ হবে এবং আমরা যেই কমিটমেন্ট জনগণের কাছে করেছি, সেই সব প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।”

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিমকে তাড়াতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে  হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি : বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিমকে তাড়াতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মানহানি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন আশাশুনি উপজেলার বামনডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হান্নানের পুত্র এবং বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মো: সালিম উদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি ২০১২ সালের শেষের দিকে বুধহাটা দারুল উলুম মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। সে সময় মাও: আমজাদ হোসেন নামের একজন শিক্ষক ছিলেন কিন্তু আমি যোগদানের কিছুদিন পর তিনি চলে যাওয়ায় আমি মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও শিক্ষার্থী সংকটে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছিল। আমি যোগদানের পর থেকে রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করে লেখাপড়ার মান উন্নয়নের চেষ্টা করি। সে সময় প্রতিষ্ঠানের কোন ভবনও ছিল না। একচালা টিনসেডের চাল ছিলো। আমি যোগদানের পর থেকে বিত্তশালী ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে দুইতলা মসজিদসহ অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে।

পড়াশোনার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬-৭জন শিক্ষার্থী থেকে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা দাড়িয়েছে সাড়ে চারশ এবং শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে বর্তমানে ২৯ জন। এতে অভিভাবক এবং এলাকাবাসী অত্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলো পাশাপাশি দারুন পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও খুশি মনে পড়াশোনা করে আসছিল। যেকারনে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার শ্রেষ্ঠ কওমি প্রতিষ্ঠান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং আমার সুখ্যাতিতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে। তবে কোনভাবে আমাকে এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানকে দমাতে পারেনি। একপর্যায়ে কিছু ব্যক্তির কথায় প্রভাবিত হয়ে জমিদাতা মো: তমেজউদ্দিন গাজী সাম্প্রতিক সময়ে আমার উপর মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের ২২ এপ্রিল জমিদাতা তমেজউদ্দিন গাজী আমাকে ফোন দিয়ে মাদ্রাসায় না যাওয়ার জন্য বলে। সে কারনে আমি মাদ্রাসায় যায়নি।

তিনি বলেন, জমিদাতার নির্দেশে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করেছি। অথচ ২৯ এপ্রিল সাতক্ষীরার স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইনে আমার বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। যেটার কোন ভিত্তি নেই। মাদ্রাসার ফোন অফিসিয়াল হিসেবে ব্যবহার করা হত। কিন্তু তাই বলে আমার ব্যক্তিগত নাম্বার আমি ব্যবহার করতে পারবো না এটা কিভাবে হতে পারে? অফিসিয়াল কাজে মাদ্রাসার নাম্বার ব্যবহার করেছি। কওমি মাদ্রাসার নিয়ম মেনেই দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়ে এসেছে। আয় এবং ব্যায়ের হিসাব প্রতি মাসেই করা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দায়িত্ব প্রাপ্ত মাও: ইলিয়াস, আলহাজ¦ ইয়াহিয়া আলম এবং রফিকুল ঢালী প্রতি মাসেই হিসাব নিতো এবং হিসাব খাতায় তাদের স্বাক্ষরও আছে। তাহলে হিসাবের গড়মিল কিভাবে হল বা আত্মসাত হল। প্রকৃতপক্ষে আমার সুনাম সুখ্যাতি নষ্ট করতে একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনেই এধরনের মিথ্যাচার করা হয়েছে।

এতে আমার মান হানি হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ওই মহলটি মূলত প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করার জন্যই গভীর চক্রান্তে নেমেছে। তিনি উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর সাথে সাথে সকলকে মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালীগঞ্জের নলতায় সড়ক ও জনপদ থেকে উচ্ছেদের পরেও পুনরায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক

কালিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের সরকারি জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের পরেও পুনরায় দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়ে গেছে।

সাতক্ষীরা ভেটখালী মহাসড়ক নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে এই অবৈধ দখলও স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে সরকারের আইন ও প্রশাসনের মান ক্ষুন্ন সহ সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানোর দুঃসাহস নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। রাস্তার পাশ দখল করে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও দখলের কাজ করতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার(২৩ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নলতা এক সম্ভাব্য একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মদদে নলতা হাসপাতালের উত্তর পাশের পশ্চিম দিক জুড়ে নলতা গ্রামের সুবোল কর্মকারের পুত্র বিকাশ, বিধান, রাহুল মৃত কানাই কর্মকারের পুত্র বিশ্বনাথ, মৃত পঞ্চাননের পুত্র শংকর, দীপঙ্কর ,মৃত রবীন্দ্র কর্মকারের পুত্র মিথুন সহ অনেককে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উচ্ছেদ কৃত জায়গায় পুনরায় দোকানঘর তৈরীর কাজ করতে দেখা গেছে।

বিষয়টি নজরে আশায় সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী- ২ এর চলতি দায়িত্বে মতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত গত ২০/৪/২৬ ইং তারিখে ৩৫.০১.৮৭৮২.৮৩৮১৮.০০১.২৬-৩৯৭ নং স্মারকে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে সাতক্ষীরা হতে ভেটখালী মহাসড়কের ২৩ কিলোমিটারে কালিগঞ্জ উপজেলাধীন নলতা কাঁচা বাজার সংলগ্ন সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমি দখল করে অবৈধভাবে পুনারায় নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। যা বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি ও বিল্ডিং (দখল উদ্ধার) অধ্যাদেশ ১৯৭০ এর ৫ ধারার পরিপন্থী। এছাড়াও মহাসড়ক আইন ২০২১ এর ১৪(৭) ধারা অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ ধারা অমান্য করলে অনূর্ধ্ব ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড সহ ৫০ হাজার টাকার উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ঘুরিয়ে দেখা গেছে সড়ক ও জলপথ বিভাগের সাতক্ষীরা থেকে ভেটখালী পর্যন্ত সাড়ে ৬২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের জন্য উভয় পার্শ্ব থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই পুনরায় শ্যামনগর ,কালিগঞ্জ ,দেবহাটা এলাকা জুড়ে রাস্তার দুই পাশে পুনরায় অবৈধভাবে সড়ক ও জনপদের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়ে গেছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest