সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ২০২৭ সালের ইংরেজি নববর্ষ প্রকাশনার উদ্বোধন১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে এবার দাম বাড়ল ২২৩ টাকাসাতক্ষীরায় নির্মানাধীন ভবনের কাজ নিয়ে দুপক্ষের বিরোধের মীমাংসাবীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা: সাতক্ষীরায় মানববন্ধনশ্যামনগরে বাস-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে ইজিবাইক চালক নিহততালায় উপজেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক নির্বাচিত তরুণ সমাজকর্মী এস. এম. নাহিদকলারোয়ায় প্রবাসীর অর্ধকোটি টাকার ইটভাটা জবরদখলের অভিযোগ- বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলননক্ষত্রের অভিবাদন: শ্যামনগরে ১০ গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনাসাংবাদিক পুত্র কাজী ফাহিমের অতুলনীয় সাফল্য : প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দনসাতক্ষীরায় জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত মানুষের আবাসন, খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার নিশ্চিতে ১১ দফা দাবি

সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ২০২৭ সালের ইংরেজি নববর্ষ প্রকাশনার উদ্বোধন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :  ‎সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ২০২৭ সালের ইংরেজি নববর্ষ প্রকাশনার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় সাতক্ষীরা জেলার মুন্সিপাড়ায় অবস্থিত আলামিন ট্রাস্টের ছাত্রশিবির অফিসে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সাতক্ষীরা শহর শাখার সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নববর্ষের প্রকাশনাগুলোর শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা শহর শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান।

‎​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকাশনা সামগ্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—বড় এক পাতা ক্যালেন্ডার, ছোট এক পাতা ক্যালেন্ডার, বড় ইংরেজি ডায়েরি, বড় বাংলা ডায়েরি, মাঝারি ডায়েরি এবং পকেট ডায়েরি।

‎​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ,ভর্তি কার্যক্রম সম্পাদক আবু সালেহ সাদ্দাম, অর্থ সম্পাদক হাফেজ আনিসুর রহমান, সাহিত্য সম্পাদক ইমরান হোসেন আফজাল, কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, প্রচার সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ, মাদ্রাসা কার্যক্রম সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ, এইচআরডি সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক মো. মাসুদুজ্জামান এবং স্পোর্টস সম্পাদক হাসানুল বান্না।

‎​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে জনকল্যাণমূলক ও মানসম্মত প্রকাশনা ছড়িয়ে দিতে ছাত্রশিবির সবসময় সচেষ্ট রয়েছে। উক্ত প্রকাশনাগুলো সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনমানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে এবার দাম বাড়ল ২২৩ টাকা

অনলাইন ডেস্ক :  দেশের বাজারে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে ঘাটতি। ফলে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বাড়তি দিয়ে কিনতে হচ্ছে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। এর ওপর এখন দাম বেড়েছে ২২৩ টাকা। গত মাসেও দাম বেড়েছিল ২১২ টাকা।

আজ সোমবার নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রতি মাসেই দাম সমন্বয় করে সংস্থাটি।

গত মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। বিইআরসি এখন নতুন দাম ঠিক করেছে ২ হাজার ৬০ টাকা। যদিও গত দেড় মাস ধরে বাজারে এটি বিক্রি হচ্ছে ২২ শ থেকে ২৩ শ টাকায়।

এলপিজি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় এক কোটি গ্রাহক জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় বাসার রান্নার কাজে। বাকিরা শিল্প ও পরিবহনে এলপিজি ব্যবহার করে। আর এ খাতের ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের দখলে, যারা আমদানি করে সরবরাহ করে। গত দুই মাসে এলপিজি আমদানি তেমন কমেনি। অথচ বাজারে সরবরাহ কমেছে।

এলপিজির নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা। এই হিসেবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) দাম প্রতি লিটার ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। তবে অভিযোগ আছে, বাজারে নির্ধারিত দামে বিক্রি হয় না। মাঝে মধ্যেই সরবরাহ সংকটের নামে এটি অনেক বেড়ে যায়। বাড়তি দাম দিয়েও এলপিজি পায় না ভোক্তা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় নির্মানাধীন ভবনের কাজ নিয়ে দুপক্ষের বিরোধের মীমাংসা

: সাতক্ষীরায় নির্মানাধীন ভবনের কাজ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যকার একটি বিরোধ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মীমাংসা করা হয়েছে।

গত ২৫ অক্টোবরের প্রথম পক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম সাইদুল (৪৪), পিতা- শেখ আশরাফ হোসেন, থানা ও জেলা- সাতক্ষীরা এবং দ্বিতীয় পক্ষ আব্দুর রাজ্জাক শিকদার (৪৮), পিতা- ইসমাইল শিকদার, সাং- রসুলপুর, থানা ও জেলা- সাতক্ষীরাসহ দুপক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী দুপক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করে। এর প্রেক্ষিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় স্থানীয় মুরুব্বিদের হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষ একত্রিত হয়ে বসে বিষয়টি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে মিটিয়ে নেন।

মীমাংসাকালে উপস্থিত ছিলেন মো. আছাদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ সরদার, তফুর আলী, শামছুর রহমান, মামুন হোসেন, আবদুল বারী, আব্দুল করিম ও আবদুস সেলিমসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মীমাংসা অনুযায়ী, উভয় পক্ষের মধ্যে আর কোনো বিরোধ বা ক্ষোভ রইল না। ভবিষ্যতে এই বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের মামলা-মোকদ্দমা বা গোলযোগ সৃষ্টি করা হবে না বলে উভয় পক্ষ অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া, উক্ত বিল্ডিংয়ে যেকোনো শ্রমিক কাজ করতে পারবেন এবং এ নিয়ে কারো কোনো আপত্তি থাকবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষ উক্ত আপোষনামা পড়ে শুনে স্বাক্ষর করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা: সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : পিরোজপুরে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট কমান্ডের আয়োজনে সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা পাকাপোলের ওপর এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

​বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভাটি সঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোস্তফা নুরুল আলম।

​সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি আজও তাদের হায়নার রূপ নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে নতুন করে চক্রান্ত শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা সৃষ্টি করেছে।

​তিনি আরও বলেন, “একজন মুসলমান কীভাবে আরেকজন মুসলমানের দাফন ও জানাজায় বাধা দিতে পারে? ৭১-এর এই পরাজিত শক্তি শুধু এখানেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা ইতিপূর্বে দেশের শতাধিক মাজার ভেঙে চুরমার করেছে। এমনকি দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে।” এ দেশ রাজাকারের নয়—মন্তব্য করে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

​প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের ফলেই আজ জাতি স্বাধীন দেশের মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছে। অথচ সদ্য প্রয়াত একজন বীর সেনানীর শেষ বিদায়ে বাধা দেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা পুরো জাতির জন্য গভীর কলঙ্ক। ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে একজন মৃত মানুষের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহের প্রতি এই অসম্মান দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত।

​বক্তারা অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস না পায়।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেন, আব্দুর রউফ, আব্দুল হামিদ, আব্দুস সোবহান, শফিক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, গণফোরাম নেতা আলিনুর খান বাবুল, জাসদ নেতা হেলালুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহি, সিপিপি নেতা আবুল হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা স্বপন কুমার শীল প্রমুখ।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে বাস-ইজিবাইক মুখোমুখি সংঘর্ষে ইজিবাইক চালক নিহত

শ্যামনগর প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরার শ্যামনগরে লোকাল বাস ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাগর আলী (৫০) নামে এক ইজিবাইক চালক নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৭টার দিকে শ্যামনগরের বংশীপুর লস্কর পাম্প সংলগ্ন সোনার মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাগর আলী শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম শওকত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেটখালী থেকে ছেড়ে আসা শ্যামনগর-কালীগঞ্জ অভিমুখী একটি লোকাল বাসের সঙ্গে ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইজিবাইক চালক সাগর আলী গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
শ্যামনগর থানার ওসি সফিউল ইসলাম পাটোয়ারি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
তালায় উপজেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক নির্বাচিত তরুণ সমাজকর্মী এস. এম. নাহিদ

তালা  প্রতিনিধি : যুব উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক নির্বাচিত হয়েছেন আমরা বন্ধু ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের সভাপতি তরুণ সমাজকর্মী এস. এম. নাহিদ হাসান।

রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে জাতীয় যুবদিবসের অনুষ্ঠানে তাঁকে উপজেলার শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ সময় তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

২০১৫ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে ‘আমরা বন্ধু’ সংগঠনের যাত্রা শুরু করেন নাহিদ হাসান। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সচেতনতা, যুব নেতৃত্বের বিকাশ ও মানবিক সহায়তামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

এ অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় এস. এম. নাহিদ হাসান বলেন, “এ সম্মাননা আমার একার নয়; এটি আমাদের সংগঠনের সব স্বেচ্ছাসেবক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযোগীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা হিসেবে এ অর্জন আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”

উল্লেখ্য, এস. এম. নাহিদ হাসান তালা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির একজন সদস্য। তাঁর এ অর্জনে তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী জাহিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দ্দার ফারুকসহ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় তরুণসমাজ অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি আরও বেশি সামাজিক ও মানবিক কাজে অবদান রাখবেন, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় প্রবাসীর অর্ধকোটি টাকার ইটভাটা জবরদখলের অভিযোগ- বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রবাসীর বিনিয়োগ করা ৫০ শতাংশ শেয়ারের একটি ইটভাটা জোরপূর্বক দখল এবং আদালতের আদেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। রবিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী রাজু আহমেদ খান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাজু আহমেদ খান বলেন, কলারোয়ার কাজীরহাট চিতলা এলাকার ‘পারুল ব্রিকস’ নামক ইটভাটাটি পরিচালনা করতেন পুটুনি গ্রামের আলমগীর হোসেন। ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিনি ভাটার ৫০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দিলে, ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা মূল্যে তার অর্ধেক শেয়ার কিনে নেন রাজু আহমেদ। ওই সময় নগদ ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে সাতক্ষীরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা হয়।

তিনি আরও জানান, ভাটার অপর অংশীদার আলমগীর ব্যক্তিগত ঋণের দায়ে পরবর্তীতে পালিয়ে যান। এরপর জমির মালিকেরা পূর্বের ঋণের টাকা রাজুর কাছে দাবি করলে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং রাজু প্রবাসে চলে যান। এই সুযোগে কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা আক্তারুল ইসলাম দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমির মালিকদের কাছ থেকে ৫ বছরের জন্য ইটভাটাটি লিজ নেন।

তিনি আরো বলেন, আদালতের ১৪৫ ও ৮৮ ধারার নিষেধাজ্ঞা এবং পুলিশি নোটিশ অমান্য করে বিএনপি নেতা আক্তারুল ইসলাম গায়ের জোরে ভাটা পরিচালনা করছেন। শুধু তাই নয়, জমির মালিক আব্দুল হামিদ, আতিয়ার রহমান ও জনাব আলীর সাথে যোগসাজস করে ভাটায় রেখে যাওয়া প্রবাসীর প্রায় ৭ লাখ ইট বিক্রি করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এবং রাজু আহমেদের কাছ থেকেও কোনো অনুমতি বা লিজ নেওয়া হয়নি—তাহলে কীভাবে তিনি ভাটাটি দখল করলেন, সেই প্রশ্ন তোলেন ভুক্তভোগী প্রবাসী।

সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি অবিলম্বে কষ্টার্জিত অর্থে কেনা ভাটার ৫০ শতাংশ মালিকানা ফেরত পাওয়া এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রতিকার পেতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এবিষয়ে কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র গাজী আক্তারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি আলমগীরের স্ত্রীর এবং জমির মালিকগণের কাছ থেকে নিয়েছি। রাজু আহমেদের সাথে আলমগীরের লেনদেন থাকতে পারে সেটি আমার জানা নেই। আমার প্রতিপক্ষরা এটা নিয়ে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
নক্ষত্রের অভিবাদন: শ্যামনগরে ১০ গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনা

শ্যামনগর প্রতিনিধি : একজন শিক্ষক ১৯৫৫ সাল থেকে পড়িয়েছেন, লিখেছেন নিজের এলাকার ইতিহাস। একজন মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালে সম্মুখযুদ্ধে পায়ে গুলি খেয়েছেন। একজন চাকরি না পেয়ে গ্রামে গ্রামে শাঁখা বিক্রি করেছেন, পরে সবজি চাষ করে পুরো গ্রামকে পথ দেখিয়েছেন। এই মানুষদের সম্মানে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বসেছিল ‘নক্ষত্রের অভিবাদন’।

‘গুণীজনের আলোয় আলোকিত হোক সমাজ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব। সাহিত্য, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ, জনসেবা, কৃষি, ক্রীড়া, সংগীত ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় গুণীজনদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে মেধা ও মননের স্বাক্ষর রাখা কয়েকজন ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীকেও সম্মাননা জানানো হয়।

শ্যামনগর উপজেলা অডিটোরিয়াম হলে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলে প্রথম পর্ব, অর্থাৎ গুণীজন সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা। এরপর একই স্থানে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী জারি গান ও সাংস্কৃতকি অনুষ্ঠান।

প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনিরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলায়মান কবীর, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক, সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি এবং শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ লিয়াকত আলী বাবু। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সাহিত্যে অবদানের জন্য সংবর্ধনা পান অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. কেরামত উল্লাহ। ১৯৩৫ সালে জন্ম নেওয়া এই গুণী মানুষ নকিপুর জমিদারবাড়ির পাঠশালায় শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ১৯৫৩ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাসের পর ১৯৫৫ সালে শিক্ষকতায় যোগ দেন। লিখেছেন ছড়া, কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ। তাঁর বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘লাল সংকেত’, ‘স্রোতস্বিনী’, ‘শ্যামনগরের ইতিহাস’ ও ‘শ্যামনগরের দর্পণ’।

শিক্ষায় অবদানের জন্য সংবর্ধিত হন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বপন কুমার মুখার্জি। নকিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০ বছর ও হায়বাতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬ বছর শিক্ষকতা করেছেন তিনি। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধেও ভূমিকা রেখেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সংবর্ধনা পান বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম মিজানুর রহমান। ১৯৭১ সালে শ্যামনগরে তিনি ছিলেন যুদ্ধকালীন ইউনিট কমান্ডার। সম্মুখযুদ্ধে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার প্রথম ইউএনও এবং ১৯৯৪ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিচালক ছিলেন।

কৃষিতে স্বীকৃতি পেয়েছেন মনোতোষ মণ্ডল। উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরি না পেয়ে একসময় গ্রামে গ্রামে শাঁখা বিক্রি করতেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে মাত্র ১৫ শতক জমিতে পুকুর খনন ও নিচু জমি ভরাট করে সবজি চাষ শুরু করেন। তাঁর দেখানো পথে হাটছালা গ্রামের অন্য কৃষকেরাও এখন স্থানীয় হাটবাজারের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজি সরবরাহ করছেন।

শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় সংবর্ধিত হন আলহাজ মো. আরশাদ আলী মোড়ল। ১৯৭০ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। পাতড়াখোলা আরশাদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভৈরবনগর দারুল উলুম বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও রমজাননগর ইউনিয়ন তোফাজ্জল বিদ্যাপীঠসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ায় ভূমিকা রেখেছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান করেছেন। ৮১ বছর বয়সেও সপ্তাহে তিন-চার দিন এসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে খোঁজখবর নেন তিনি।

সমাজসেবায় সংবর্ধনা পান আলহাজ আবুল কালাম বাবলা। আইলা, সিডরসহ বিভিন্ন দুর্যোগে উপকূলীয় এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। প্রচারের আড়ালে থেকে কাজ করাই তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ক্রীড়ায় সংবর্ধিত হন এস এম ফিরোজ হোসেন। ১৯৭৫ সালে সাতক্ষীরা পিকে ক্লাবে খেলা শুরু করে পরে খুলনা শিপইয়ার্ড ও ঢাকা সাধারণ বীমা ক্লাবেও খেলেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মরণোত্তর সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয় তিনজনকে। সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য সংবর্ধনা পান ১৯৮৫ সালে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মল্লিক, যিনি সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন।

জনসেবায় সম্মাননা দেওয়া হয় বাবু বিশ্বনাথ দাসকে, যিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে সদর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ নানা উন্নয়নকাজে ভূমিকা রেখেছেন এবং নিপীড়িত মানুষের পক্ষে প্রতিবাদী ছিলেন। সংগীতে সংবর্ধনা পান গীতিকার ও সুরকার অনিমেষ ব্যানার্জি। কলকাতায় পণ্ডিত নিখিল ব্যানার্জির কাছে সেতার শিখেছিলেন তিনি। খুলনা বেতারে প্রচারিত হয়েছে তাঁর লেখা ও সুর করা অনেক গান।

ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ আশরাফিয়া দাওরা হাদিস মাদ্রাসায় অর্ধশতাব্দী ধরে নিবেদিতভাবে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সংবর্ধনা পান হাফেজ মো. আব্দুল আলী। সম্মাননা দেওয়া হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ ও মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক জিহাদ আলীকেও।

নতুন প্রজন্মকেও সম্মান জানানো হয় অনুষ্ঠানে। একাগ্রতা, মেধা ও মননের সমন্বয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য বিশেষ সম্মাননা পান সাথী মুন্ডা, শারমীন আক্তার, খাদিজা খাতুন, রেহানা খাতুন, আসাদুল মোল্যা, আমীর হোসেন, কামরুজ্জামান, মো. মাসুম বিল্লাহ, আনিকা তাবাসসুম, জেবা তাসনিয়া, হাফেজ মুহাম্মদ রিয়াসাত আলী ও হাফিজুর রহমান (হাফিজ)। শ্যামনগর মডার্ন স্কুলের ১০ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বই উপহার।

গুণীজনদের সম্মাননার পাশাপাশি প্রেসক্লাবের সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মূল্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয় প্রেসক্লাবের নিজস্ব ম্যাগাজিন ‘আত্মপ্রকাশ’। আয়োজকেরা মনে করছেন, স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তিদের কর্ম ও জীবনের কথা নতুন প্রজন্মকে জানাতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। #

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest