সর্বশেষ সংবাদ-
ইছামতি নদীতে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা রেজাউলের জীবন যুদ্ধগণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের মিছিল ও সমাবেশসাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা : গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণশ্যামনগরে নদীর চরে গাছ হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনকালিগঞ্জে চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়লের বাড়ি থেকে ১২শ লিটার ডিজেল উদ্ধারকলারোয়ায় সাপের কামড়ে তরুণীর মৃত্যুজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাআঙ্গুল : গার্লস স্কুলে ভর্তি নিচ্ছে না প্রধান শিক্ষকজাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা ইউনিটের সদস্য সচিব এবং সদস্য -এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিবৃতিদিবা-নৈশ কলেজের অধ্যক্ষের বাগান বাড়ির চার শতাধিক গাছ কেটে ক্ষতিসাধনআগামীকাল রবিবার থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৩ দিনের ছুটি

ইছামতি নদীতে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা রেজাউলের জীবন যুদ্ধ

দেবহাটা প্রতিনিধি:  দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম—জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে চলা এক সংগ্রামী মানুষ।

মৃত বাহাদুর সরদারের পুত্র রেজাউল ইসলাম তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে তার সংসার, আর সেই সংসারের একমাত্র ভরসা ইছামতি নদী।

প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই তিনি ছুটে যান ইছামতি নদীতে। হাতে থাকে একটি ছোট নেট জাল। নদীর পানিতে নেমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করে সংগ্রহ করেন বাগদা চিংড়ির পোনা (গুঁড়ো) ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জলজ সম্পদ।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কখনো স্রোতের সঙ্গে লড়াই, কখনো প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে তিনি সংগ্রহ করেন এই সামান্য আয়ের উৎস। প্রায় ৩০ বছর যাবত  নদী থেকে সংগৃহীত এসব পোনা পরে বাছাই করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন রেজাউল। কিন্তু এই আয়ে খুব কষ্টে চলে তার সংসার। তবুও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হাল ছাড়েননি তিনি। বড় ছেলে কলেজে পড়াশোনা করছে, আর মেয়ে স্কুলে। তাদের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয় তাকে।

নিজের দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রেজাউল ইসলাম। কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে, চোখে জমে ওঠে জল। তিনি বলেন, “এই নদী ছাড়া আমাদের আর কোনো ভরসা নেই। যা পাই, তাই দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। ছেলেমেয়েদের মানুষ করার স্বপ্নটাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখছে।”
স্থানীয়রা জানান, রেজাউল ইসলামের মতো আরও অনেক পরিবার ইছামতি নদীর ওপর নির্ভরশীল। তবে দিন দিন নদীর অবস্থা খারাপ হওয়া ও পোনার প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় তাদের জীবন-জীবিকা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের মিছিল ও সমাবেশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : নির্বাচনের পর গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরাতে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য।

রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪ টায় আমতলা গণমুখি মাঠ থেকে মিছিলটি বের হয়ে নারকেলতলা মোড়, আসিফ চত্বর, কোট মোড়, নিউমার্কে মোড়, পাঁকা পুলের মোড় হয়ে নাজমুল সরণি হয়ে পূনরায় আমতলা গণমুখি মাঠে গিয়ে শেষ হয় মিছিলটি।

মিছিল পূর্ববর্তি সমাবেশ থেকে অবিলম্বে জনগণের রায়কে মেনে নিয়ে দ্রুত তা বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিতে ও জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশ বক্তব্য রাখবেন, সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের এমপি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, ডা মাহমুদুর রহমান, এনসিপির জেলা আহবায়ক কামরুজ্জামান বুলু, এবিপাটির জেলা সদস্য সচিব, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী ওমর ফারুক,

শহর আমীর জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারী খোরশেদ আলম, সদর সেক্রেটারী হাবিবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয়,জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখছেন। বক্তারা, বিএনপি সরকারের নেওয়া জনস্বার্থ বিরোধী পদক্ষেক, নির্বাচনের আগে দেশবাসীকে দেয়া গণভোট বাস্তবায়নের আশ্বাস, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের কাছে দাবী জানান।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা : গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়াজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আক্তার সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় জানানো হয়, গত বছরের তুলনায় এবছরের মার্চ মাসে জেলায় প্রায় দেড়গুন জ্বালানী তেল বেশি এসেছে।

এছাড়া সভায় জ্বালানী তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারকরণ,জ্বালানী তেলের অবৈধ মজুদদারির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার, যানজট নিরসনে বাস থামার স্থান চিহিৃতকরণ,মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারকরণ,সুন্দরবনে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারকরণ,সরকারি খাস জমি উদ্ধারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো: ইজ্জতুল্লাহ,সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম রাজু আহমেদ,সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম,মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু,জেলা জামায়াতের আমীর শহিদুল ইসলাম মুকুল,প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম,ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে নদীর চরে গাছ হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৯নং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পূর্ব দুর্গাবাটি হুলায় নদীর চরে নির্বিচারে গাছ নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে উপজেলার বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংস্থার স্বেচ্ছাসেবীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদীর চরে থাকা হাজার হাজার ছোট-বড় গাছ কোনো নিয়ম-নীতি ছাড়াই কেটে ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব গাছই ছিল প্রাকৃতিক ঢাল, যা নদীভাঙন রোধ করত, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে মানুষকে রক্ষা করত এবং অসংখ্য প্রাণীর আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করত।

তারা আরও বলেন, মানুষের লোভ ও অবহেলায় আজ সেই সবুজ বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এটি শুধু গাছ কাটা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও পরিবেশ ধ্বংসের শামিল। এভাবে গাছ নিধন চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেবে, বাড়বে নদীভাঙন, ধ্বংস হবে জীববৈচিত্র্য।

মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়—অবিলম্বে গাছ নিধন বন্ধ করতে হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

বক্তারা সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিবেশ রক্ষায় এখনই সময় ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলার।

সিডিও’র নির্বাহী পরিচালক ও উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি গাজী আল ইমরান এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবিয়ার রহমান,সিডিও ইয়ুথ টিমের সিনিয়র ভলেন্টিয়ার আনিসুর রহমান মিলন, নূরনাহার পারভীন নুহা, শুভজিত, বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের টিম লিডার শাহিন হোসেন, ইয়ুর ফর সুন্দরবন থেকে মুনতাকিমুল ইসলাম রুহানি, রাজিয়া সুলতানা সহ অনেকে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিডিও’র সিনিয়র ভলেন্টিয়ার হাফিজুর রহমান

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কালিগঞ্জে চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়লের বাড়ি থেকে ১২শ লিটার ডিজেল উদ্ধার

কালিগঞ্জ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ১২ শ লিটার ডিজেল জব্দ ডিজেল জব্দ করেছে যৌথ বাহিনী।

রোববার দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ফেরদৌস মোড়‌লের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনী।
অভিযানে মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফেরদাউস মোড়লের নিজ বাসভবন ও ব্যক্তিগত গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ৬ ব্যারেল ডিজেল ১২০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়।

অভিযানে অংশ নেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসতিয়াক আহমেদ অপু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ১২০০ লিটার ডি‌জেল অবৈধ মজুদের দায়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ফেরদাউস মোড়লকে ১০ হাজার টাকা জ‌রিমানা করেন এবং ডিজেলগুলো জব্দ করেন। এসময় ১৬‌টি খা‌লি ব‌্যা‌রেল উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সেনা বাহিনী এবং র‌্যাবের সদস্যরা অংশ গ্রহণ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসতিয়াক আহমেদ অপু বলেন, সাতক্ষীরায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যৌথ বাহিনী। তারই অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান। এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় সাপের কামড়ে তরুণীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি : ​সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিষধর সাপের কামড়ে এক তরুণীর করুন মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার চন্দনপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত তরুণীর নাম বিথী খাতুন (১৮)। সে ওই গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের কন্যা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় সকালে বিথী তাদের রান্নাঘর ঝাড়ু দেওয়ার জন্য ভিতরে ঢুকলে হঠাৎ একটি বিষধর সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। এসময় তীব্র যন্ত্রণা ছটফট করতে থাকে সে। দ্রুত তাকে তার স্বজনরা উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ফয়সাল সরদার তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
​এদিকে, তরুণী বিথীর মৃত্যুর খবরে গোটা চন্দনপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এমন শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।###

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাআঙ্গুল : গার্লস স্কুলে ভর্তি নিচ্ছে না প্রধান শিক্ষক

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তি নিচ্ছে না সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দীন। গত ১১ মার্চ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে সাতক্ষীরার সরকারি দুই স্কুলে ভর্তি কমিটির সভায় অভিভাবকগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়।

কিন্তু ১ মাস অতিবাহিত হলেও নিজের দাম্ভিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজনকেও ভর্তি করেন নি সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দীন। একজন অবিভাবক তার সন্তানকে ভর্তি করতে গেলে ভর্তি কমিটির উক্ত সিদ্ধান্ত মানেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলা সদরে সরকারি স্কুলে ভর্তি কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি ও সরকারি স্কুলের সিনিয়র প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কমিটিতে সদস্য হিসেবে সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), শিক্ষা প্রকৌশলের নির্বাহী প্রকৌশলী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক, জেলা শিক্ষা অফিসার, সরকারি দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ভর্তি নীতিমালা ২০২৫ অনুয়ায়ী জেলা প্রশাসক ও ভর্তি কমিটির সভাপতি বরাবর আবেদন করেন অবিভাবকগণ।

আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে আবেদনকারীদের সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করেন। আবেদনগুলো নিয়ে গত ১১ মার্চ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে ভর্তি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) স্কুলে ভর্তির নীতিমালা উপস্থাপন করেন। প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে ১৩ জনকে সাতক্ষীরা শহরের সরকারি দুই স্কুলে ভর্তির জন্য সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ জন, বাকী ৭ জন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রত্যেক আবেদনকারীর সকল তথ্য ও উপাত্ত এবং সভার রেজুলেশন স্কুলে পাঠানো হয়। আবেদনের নামের পাশে কোন ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সভার একমাস অতিবাহিত হলেও সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থীকে এখনও ভর্তি করানো হয় নি। এমনকি কোন শিক্ষার্থীর অবিভাবকের সাথে যোগাযোগও করা হয়নি। কেউ কেউ যোগাযোগ করলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দীন ঐ স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক অন্যত্র বদলি হওয়ায় তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র আরো জানায়, সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সভার একজন সদস্য হওয়ার পরেও তিনি সভায় সিদ্ধান্ত মানছেন না। সাতক্ষীরা শহরের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা শাহিদুন নেছা জানান, আমার ছোট মেয়েকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য জানুয়ারি মাসে আবেদন করি। সেই আবেদন যাচাই-বাছাই করে ভর্তির জন্য ভর্তি কমিটি সহদর কোটায় সুপারিশ করেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে খোঁজ নিতে গেলে স্কুলের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। স্কুলে যোগাযোগ করলে প্রধান শিক্ষক ৮ এপ্রিল ভর্তি ফিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু ঐদিন ভর্তি না করিয়ে আমাকে কয়েক ঘন্টা স্কুলে দাড় করিয়ে রেখে অনেক অপ্রাসঙ্গিক, অবান্তর ও অসম্মানসূচক কথাবার্তা বলে বলেন, আপনাকে এই (আবেদনের) পরামর্শ কে দিয়েছে? এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দীন ও সহকারী শিক্ষক বাবুল আহসান স্কুল থেকে আমাদের অপেক্ষা করতে বলে বেরিয়ে যান। প্রায় দেড় ঘন্টা পরে এসে বলেন আপনাকে মেয়েকে ভর্তি এখন করা হবে না, আপনারা চলে যান। ফলে আমরা চলে আসি।
ভর্তির বিষয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলেন জানা যায়, স্কুল থেকে তাদের জানানো হয় নি। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দীনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক জানান, কারো সাথে যোগাযোগ না করলে তারা এ বিষয়ে জানতে পারবে না। ভর্তি কমিটির পরবর্তী সভায় স্কুল থেকে জানানো হবে কেউ ভর্তি হয়নি। তখন নিজেদের পছন্দের শিক্ষার্থীকে ভর্তি সুযোগ পাবেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। কারণ ভর্তি নীতিমালার ১১.৮ এ বলা হয়েছে কোটাভূক্ত পাওয়া না গেলে সাধারণ কোটা থেকে উক্ত আসনে ভর্তি করতে হবে। কোন অবস্থায় আসন শূন্য রাখা যাবে না। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলাউদ্দীন জানান, আমি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) স্যারকে একজন শিক্ষার্থীর বিষয়ে অবগত করেছি। ২০২৫ সালে দুইটি আবেদন করেছিলেন, তাই ভর্তি নেয়া হয় নি। তাদের আবেদন গ্রহণ করেছি। তবে এখনও ভর্তি নেয় নি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা ইউনিটের সদস্য সচিব  এবং সদস্য -এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিবৃতি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা ইউনিটের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোঃ নুরুল আমিন এবং সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম সেলিম-এর বিরুদ্ধে বানোয়াট ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা ইউনিটের আহবায়ক কমিটির পক্ষ থেকে বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যাচ্ছি যে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে “আইবি ইসমাইল বাবু” নামীয় একটি আইডি হতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সাতক্ষীরা ইউনিটের সম্মানিত সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোঃ নুরুল আমিন এবং ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম সেলিম-এর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্যসহ ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

উক্ত বক্তব্যসমূহ শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুন্ন করেনি, বরং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম-এর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা বলে আমরা মনে করি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আইনজীবী সমাজের মর্যাদা ও পেশাগত সততা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের পক্ষ থেকে উক্ত মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সাথে সাথে উক্ত ইসমাইল বাবুকে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অবিলম্বে এই ধরনের মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest