সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতারশ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধনএবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদনসাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধনএডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামেরপ্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ডসাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবিসাতক্ষীরায় হেভী ইকুইপমেন্ট অপারেটর শ্রমিক ইউনিয়নের মতবিনিময় সভাস্বাস্থ্যকর্মকর্তা  ও আব্বাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য : নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানবন্ধন

সাতক্ষীরায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী হ%ত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি:  সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জায়গা-জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে মোজাম্মেল মিস্ত্রী (ডিসিস্ট) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার ১ ও ২ নম্বর এজাহারনামীয় প্রধান দুই আসামিকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সাতক্ষীরা জেলা।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— জিসান হোসেন ওরফে বিজয় বাবু ওরফে জিহান (২৪), পিতা- মোঃ ইস্রাফিল মিস্ত্রী এবং আবুজার গিফারি (২২), পিতা- মোঃ ওমর ফারুক। উভয়ের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গৌরিপুর এলাকায়।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় মোজাম্মেল মিস্ত্রী শ্যামনগর থেকে নিজ মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে গোপালপুর ব্রিজের ওপর পৌঁছালে পূর্ব বিরোধের জেরে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫:১৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে তোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একটি হত্যা মামলা (নম্বর-২২, তারিখ- ২০/১০/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) দায়ের করেন।

মামলাটি পিবিআইয়ের শিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ও পুলিশ সুপার, পিবিআই খুলনা জেলা (অতিরিক্ত দায়িত্ব, পিবিআই সাতক্ষীরা)রেশমা শারমিন এর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তভার ন্যস্ত হয় এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ তুহিন গাজীর ওপর।
পরবর্তীতে পিবিআই সাতক্ষীরার একটি চৌকস দল পিবিআই সিলেট জেলার সহযোগিতায় গত ২৭ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে সিলেট মহানগর এলাকা থেকে ওই দুই আসামিকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আজ ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূলে মানববন্ধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন গাবুরা ইউনিয়নে বনদস্যু নির্মূল ও জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বেড়িবাঁধে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ অংশ নেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় বনদস্যুবিরোধী প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান অবলম্বন মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ ও বনজ সম্পদ সংগ্রহ। প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে অসংখ্য জেলে ও বাওয়ালি সুন্দরবনের নদী-খালে প্রবেশ করেন। কিন্তু বনদস্যুদের অপতৎপরতা, অপহরণ ও মুক্তিপণের আতঙ্ক তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা, জেলে-বাওয়ালিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তাঁদের মতে, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল উপকূলীয় মানুষের জীবিকা রক্ষা করতে হলে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ও সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। এসময় উপস্থিতিত থেকে অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির পক্ষে কামরুল ইসলাম বাবলুর সভাপত্তিত প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সালাউদ্দিন লিটন,মাস্টার আব্দুর রহিম, মাওলানা এছাহাক আলী, ইউপি সদস্য আবিয়ার রহমান, ইয়াসিন আরাফাত, মহিলা মেম্বার ফরিদা পারভীন ও আশিকুর রহমান বক্তব্য রাখেন ।

বক্তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের আধার নয়, উপকূলীয় হাজারো পরিবারের জীবন-জীবিকার অবলম্বন। বনদস্যুদের ভয়ে জেলে ও বাওয়ালিরা যেন জীবিকার সন্ধানে বনে যেতে আতঙ্কিত না হন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর তৎপরতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার এবং বনদস্যুদের দমনে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জেলে ও বাওয়ালিরা তাঁদের নিরাপদে সুন্দরবনে যাতায়াত এবং নির্বিঘ্নে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার পাশাপাশি উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা ও জীবিকা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।#

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এবিপার্টি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আহবায়ক কমিটির অনুমোদন

আমার বাংলাদেশ পার্টি(এবিপার্টি) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শাখার ২৯ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

২৭ অক্টোবর ২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ব্যারিস্ট্রার আযম খান, প্রফেসর ড. অহাব মিনার(অব:মেজর) এবং দপ্তর সম্পাদক এড. আল মামুন রানা স্বাক্ষরিত এক পত্রে উক্ত কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

কমিটির নেতৃবৃন্দ হলেন, আহবায়ক মো: ওয়ালীউল্লাহ, যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জি মো: আবিদ হোসেন, সদস্য সচিব মো: ইমরুল হাসান, যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্র শেখর রাহা রতন এবং খাদিজা খাতুন কে যুগ্ম সদস্য সচিব করে। এছাড়া বাকীদের সদস্য করে উক্ত কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ###

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় শিশু ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরা জেলায় সম্প্রতি একাধিক ধর্ষণ ও শিশু ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শহরের মিলবাজার এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দল’-এর উদ্যোগে এবং রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশের (রিইব) ‘হোপ’ প্রকল্পের বাস্তবায়নে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা নেটজ বাংলাদেশ ও জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয় (বিএমজেড) সহযোগিতা প্রদান করে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা দলের সদস্য জুলফিকার রায়হান এবং সঞ্চালনা করেন শাহাজাহান সিরাজ।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া খাতুন, শিক্ষক অরুণ কান্তি সানা, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আকলিমা খাতুন ও নবম শ্রেণির ছাত্রী খুশি আক্তার।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের ওপর এ ধরনের যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারকে সব ধরনের হুমকি-ধমকি থেকে সুরক্ষা দিতে হবে। এছাড়া গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ছবি, ভিডিও বা পরিচয় প্রকাশ করে তাঁদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানান বক্তারা।

অনুষ্ঠানে রিইব হোপ প্রকল্পের সমন্বয়কারী খালিদ হাসান আয়োজকদের পক্ষে চার দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো:
ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া এবং মামলা প্রত্যাহারে হুমকি বা চাপ সৃষ্টি বন্ধ করা।
ভুক্তভোগীদের পরিচয়, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ রোধ করে তাঁদের গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা। নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মানববন্ধনে সুশীল সমাজের (সিএসও) প্রতিনিধি লাভলু, মোস্তাকিম, রাবেয়া খাতুন, জান্নাতুল, শাহাদাৎ ও শাকিবসহ মানবাধিকার সুরক্ষা দলের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব দাবি বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
এডিসি রিপন বিশ্বাসের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাতক্ষীরা আইনজীবী ফোরামের

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তাকে অপসারণের দাবিতে আগামী ২৮ অক্টোবর মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি হলরুমে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে, তার সাথে কোন প্রকার খারাপ আচরন করা হয়নি বলে দাবি করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন বিশ^াস বলেছেন, ভিপি “ল” ইয়ার অ্যাড. নুরুল আমিন কর্তৃক সরকারের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করায় আইনমন্ত্রালয়ে তার বিষয়ে পত্র প্রেরন করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছেন।
সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাড. মোঃ আকবর আলীর সভাপতিত্বে আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরি হলরুমে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন, সংগঠনের সদস্য সচিব অ্যাড. আলহাজ্ব মোঃ নুরুল আমিন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, অ্যাড. এবিএম সেলিম, অ্যাড. শহীদ হাসান, অ্যাড. আবু সাঈদ রাজা, অ্যাড. শাহরিয়ার হাসিব, অ্যাড. জি এম ফিরোজ আহমেদ, অ্যাড. মিজানুর রহমান বাপ্পি, অ্যাড. ওলিউল্লাহ, অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম (৫), অ্যাড.সোহরাব হোসেন বাবলু ও অ্যাডভোকেট সরদার সাইফসহ সংগঠনের নেতারা।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৯ অক্টোবর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার আদেশকে কেন্দ্র করে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. মো. আকরাম আলী এবং আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাড. আলহাজ্ব মোঃ নুরুল আমিনের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাস অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ঘটনায় আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানান।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ২৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে মানববন্ধন করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে, এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাস জানান, তিনি ভিপি “ল” ইয়ার হওয়ার পরও সরকারের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করায় আইন মন্ত্রালয়ে তার বিষয়ে পত্র প্রেরন করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছেন। তার সাথে কোন প্রকার খারাপ আচরন করা হয়নি। তিনি আরো জানান, তার সাথে যা আলাপ আলোচনা হয়েছে তার ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে। ###

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রেরণার নির্বাহী পরিচালক শম্পার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

অনলাইন ডেস্ক : সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অর্থায়ন এবং ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে সাতক্ষীরার “প্রেরণা” এনজিওর পরিচালক শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

পুলিশের গোয়েন্দা শাখার তদন্তের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং এনজিওর মাধ্যমে অর্থ সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে শম্পা গোস্বামীর অনলাইনে যোগাযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ভারতে তার বাড়ি, জমি ও ব্যাংক হিসাব থাকার কথা উঠে এসেছে এবং এ বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

প্রেরণা এনজিওর কার্যালয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে, কালিগঞ্জে কার্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও ওই ঠিকানা ব্যবহার করে নারী উদ্যোক্তা সংগঠনের জন্য বরাদ্দের অনুদান তোলা হয়েছে। মহিলা অধিদপ্তরের তালিকায় কালিগঞ্জের ঠিকানায় কয়েক দফায় ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান উত্তোলনের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সে সময়ে কালিগঞ্জের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্ণা চক্রবর্তী।

এ ঘটনায় মহিলা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নাজমুন নাহার জানান, শম্পা গোস্বামীর পরিচালিত এনজিও প্রেরণা’র বিষয়ে আমার উপর তদন্ত ভার দেয়া হযেছে। ঢাকা থেকে আমার কাছে প্রেরণা এনজিওর গত ১০ বছরের অনুদানের তালিকা চেযেছে, যার তদন্ত চলছে।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু জানিয়েছেন, প্রেরণা এনজিওর মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন ও অর্থায়নের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো জানান- গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তিনি তাকে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান।

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে এনজিওর মাধ্যমে ভারতে অর্থপাচার ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ করেন। তিনি প্রেরণা এনজিওর লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান।সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ জানিয়েছেন, সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শম্পা গোস্বামীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ তাকে খুঁজছে। গ্রেপ্তারে পুলিশের বিভিন্ন দলকে সতর্ক করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে অধিকতর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় যৌতুকের বলি মা-মেয়ে : হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি :  যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মা ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন জোনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ সরদার সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে। মামলার বাদী জাহানারা খাতুন (৫৬)। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি সরদার পাড়ার বাসিন্দা বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী জাহানারা খাতুনের মেয়ে সাবিনা ইসলাম (২৬) প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে কালিগঞ্জের ঘোনা গ্রামের আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে অশান্তি দেখা দেয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।

এজাহারে বলা হয়, আসামির মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা ইসলাম তাঁর সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে বাদী জেগে ওঠেন। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকাকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। মামলায় আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও ছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামি আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পলাতক হয়ে যান।
যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে মা ও শিশুকন্যার প্রাণহানির এ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় নগর দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন: বস্তিবাসীকে পরিকল্পিত আবাসনের আওতায় আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: নগরকে সুন্দর ও পুনরুজ্জীবিত করতে যারা নিরন্তর পরিশ্রম করেন, সেই মানুষদের বস্তিবাসী হিসেবে অবহেলায় না রেখে পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের প্রধান ফটকের সামনে বিশ্ব নগর দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এই দাবি জানান।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘শহরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন।’

মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আজাদ হোসেন বেলাল, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলী নূর খান বাবুল, লেখক সিদ্দিকুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ, গ্রীন কোয়ালিশনের যুগ্ম সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্য জ্যোতি সরকার, ইমতি জামিল প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানকার অনেক মানুষ এখনো নগরসুবিধা থেকে বঞ্চিত। নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার ও আবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। নগরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বস্তিবাসীর জন্য পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলী নূর খান বাবুল বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভাকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাইলে আমাদের এখনই ১০০ বছরের একটি পরিকল্পনা নিতে হবে। সাতক্ষীরা শহরে একটি বাঞ্ছনীয় পরিবেশ তৈরি করতে এবং পৌরসভাকে একটি সুন্দর ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত আবাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে সাতক্ষীরার পরিস্থিতি এর চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। #

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest