সর্বশেষ সংবাদ-
সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবলের ফাইনাল: টাইব্রেকারে চ্যাম্পিয়ন আশাশুনি উপজেলা দলকোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না – ওসি জাহাঙ্গীর আরিফপ্রাণ সায়র খাল ধারে সাতক্ষীরা ল স্টুডেন্টস ফোরামের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচিকলারোয়ায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ: বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশনদেবহাটার খলিশাখালীর চরে সুপেয় পানির সংকট : ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের দাবিসি.আর দত্ত এর ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী এবং রঞ্জন কর্মকারের মৃত্যুতে স্মরণসভাজিএম নূর ইসলাম -দৃঢচেতা এক সফল মানুষ্বিশ^জিৎ সাধুর ভোগ দখলীয় সম্পত্তি দখল চেষ্টার প্রতিবাদে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের বিবৃতিদৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলামের মৃত্যুতে জেলা জাতীয় পার্টির শোকদেবহাটায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত, বাস আটক

সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবলের ফাইনাল: টাইব্রেকারে চ্যাম্পিয়ন আশাশুনি উপজেলা দল

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় সমাপ্ত হলো ঐতিহ্যবাহী ‘জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’। রোববার বিকেলে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনাল খেলায় কালিগঞ্জ উপজেলা দলকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে আশাশুনি উপজেলা দল।

খেলা শেষে স্টেডিয়াম মাঠে আড়ম্বরপূর্ণ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কায়সার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মইনুল ইসলাম মঈন, জেলা বিএনপির আহবায়ক এএইচএম রহতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আবুল হাসান হাদী, যুগ্ন আহবায়ক তাজকিন আহমেদ চিশতি, বিএনপি নেতা আব্দুর রউফসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র্র করে দুপুর থেকেই স্টেডিয়াম এলাকায় ফুটবলপ্রেমী মানুষের ঢল নামে। খেলা শুরুর আগেই গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার ক্রীড়ামোদী দর্শক পুরো ম্যাচ জুড়ে দুই দলকেই করতালি ও উন্মাদনায় উৎসাহিত করেন।

মাঠের লড়াইয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় দু’দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মেতে ওঠে। চমৎকার ফুটবল শৈলী প্রদর্শন করে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়। পরবর্তীতে খেলার ফলাফল নির্ধারণে টাইব্রেকারের আশ্রয় নেওয়া হয়। টাইব্রেকারে আশাশুনি উপজেলা দল ৫-৩ গোলে কালিগঞ্জ উপজেলা দলকে পরাজিত করে ট্রফি ছিনিয়ে নেয়।

খেলায় বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার ক্রীড়াঙ্গনকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রেখে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজন করা প্রয়োজন। সম্প্রতিক সময়ের কোন খেলায় এত দর্শকের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ম্যাচটি সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক কমিটি ও দর্শক সমাজকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কোন মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না – ওসি জাহাঙ্গীর আরিফ

আশাশুনি প্রতিনিধি:
যারা মাদক ব্যবসায়ী ও সেবন করে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্কুল টাইমে কোন বকাটিয়াদের স্কুলের সামনে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।

পুলিশের পক্ষ থেকে মোবাইল টিম মোটরসাইকেল যোগে টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সেই সাথে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের প্রশ্রয়দাতাকেও ছাড় দেয়া হবে না বললেন ওসি জাহাঙ্গীর আরিফ। শনিবার সকালে আশাশুনি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

তিনি মাদক বিক্রেতাদের কড়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আশাশুনি থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জিরো টলারেন্সে কাজ করছি আমরা। এ ব্যাপারে কোন ছাড় নাই। মাদকসহ কাউকে পেলে এসিল্যান্ড সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে জাগায় জেল-জরিমানার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যে কোন প্রয়োজনে বা যে কোনো তথ্য সরাসরি আমাকে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, আশাশুনি থানায় কোন মামলা, জিডি এবং কোন অভিযোগ করতে এক টাকাও লাগবেনা।

কেউ কোন মিথ্যা মামলায় পড়বে না তদন্ত করব তারপরে মামলা রুজু করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি মাদককে নির্মূল করতে প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমি যতদিন আছি আশাশুনি প্রেসক্লাবের কোন সাংবাদিকরা আমার কাছ থেকে কোন মিথ্যা মামলা ও লাঞ্চিতর শিখার হবেন না।

মতবিনিময়কালে ইন্সপেক্টর তদন্ত সঞ্জয় কুমার দাস, প্রেসক্লাবের সভাপতি এসকে হাসান, সাধারণ সম্পাদক আকাশ হোসেন সহ প্রেসক্লাবের ৪৯ জন সদস্যের মধ্যে অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
প্রাণ সায়র খাল ধারে সাতক্ষীরা ল স্টুডেন্টস ফোরামের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি

সাতক্ষীরা ল স্টুডেন্টস ফোরামের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ সায়র খাল ধারে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুভ উদ্বোধন করা।

বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ল স্টুডেন্টস ফোরামের সভাপতি মো:দেলোয়ার হোসেন,সহ সভাপতি ইমরান হুসাইন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হাসান , দপ্তর সম্পাদ মোঃ শরিফুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক প্রদীপ কুমার , সদস্য আবু রাহানসহ প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলারোয়ায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ: বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশন

কলারোয়া প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কের নামে একাধিকবার ধর্ষণ ও গর্ভপাতের পর প্রতারক প্রেমিকের বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও বিয়ের দাবিতে ওই তরুণী অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

​অভিযুক্ত প্রতারক মনিরুল ইসলাম কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের আশা গাজীর ছেলে। ভুক্তভোগী নারী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি (২০) একই উপজেলার ৪ নম্বর লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের আনারুল ইসলামের কন্যা।

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে রেক্সোনা আক্তার স্মৃতির সাথে মনিরুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুবাদে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মনিরুল তার নিজ বাড়িসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন পার্কে ও গোপন স্থানে নিয়ে স্মৃতির ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে স্মৃতি গর্ভবতী হয়ে পড়লে গত ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার স্বপ্না ক্লিনিক অ্যান্ড আকসা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করিয়ে গর্ভাবস্থার সত্যতা (পজিটিভ রিপোর্ট) নিশ্চিত করা হয়।

​স্থানীয়রা জানান, গর্ভাবস্থার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কাজী ডেকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে কৌশলে গর্ভপাত (অ্যাবশন) করানো হয়। পরবর্তীতে সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্ক অস্বীকার করে প্রতারক মনিরুল গোপনে বিদেশ চলে যান।

​পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বিদেশ চলে যাওয়ার পর অসহায় ওই নারী কোনো উপায় না পেয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। স্থানীয়দের পরামর্শে শুক্রবার (২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী নারী তার অধিকার ও স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামে মনিরুল ইসলামের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি জানান, তাকে বিয়ে ও পারিবারিক মর্যাদা না দিলে তিনি ওই বাড়িতেই বিষপান করে বা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবেন।

​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মনিরুলের পরিবার ওই ওয়ার্ডের সাবেক এক ইউপি সদস্যকে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে স্থানীয় মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আশ্বাসে যে, মনিরুল দেশে ফিরলে স্থানীয়ভাবে এই ঘটনার সঠিক বিচার করা হবে। পরে ওই নারী এমন আশ্বাসে বাড়ি ত্যাগ করেন।

​এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অসহায় রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতারক মনিরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটার খলিশাখালীর চরে সুপেয় পানির সংকট : ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের দাবি

দেবহাটা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খলিশাখালীর চর এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকার শত শত মানুষের খাবার পানি ও স্থানীয় জামে মসজিদের মুসল্লিদের অজুর পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে খলিশাখালীর চর এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পানির সংকটের বিষয়টি জানা যায়। এ সময় এলাকার বাসিন্দা ওলিউল গাজী, রুস্তম, রজব আলীসহ কয়েকজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের এলাকায় নিরাপদ ও সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। খাবার পানি সংগ্রহের জন্য তাদের অনেক দূরের স্থান থেকে পানি নিয়ে আসতে হয়। এতে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলেন, খলিশাখালীর চর এলাকায় নিম্নআয়ের ও অসহায় মানুষের বসবাস বেশি। নিজেদের অর্থায়নে একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের সক্ষমতা তাদের নেই। এলাকার জামে মসজিদে প্রতিদিন শত শত মুসল্লি নামাজ আদায় করতে আসেন। কিন্তু মসজিদে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় মুসল্লিদের অজু করতেও সমস্যায় পড়তে হয়।

এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেবহাটা উপজেলা আমির মাওলানা ওলিউল ইসলামকে অবহিত করা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিলে দ্রুত খলিশাখালীর চর এলাকায় একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা সম্ভব হবে।

খলিশাখালীর চর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সি.আর দত্ত এর ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী এবং রঞ্জন কর্মকারের মৃত্যুতে স্মরণসভা

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মেজর জেনারেল সি.আর দত্ত(বীর উত্তম) এর ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী এবং মানবাধিকারকর্মী ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য রঞ্জন কর্মকারের আকস্মিক মৃত্যুতে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ জেলার নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, সংগঠনের জেলার সভাপতি বিশ^জিৎ সাধু।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ^নাথ ঘোষ, জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি এড.সোমনাথ ব্যানার্জি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুধাংশু শেখর সরকার, খ্রিষ্টান এসোসিয়েশন সাতক্ষীরার সভাপতি স্বপন বৈরাগী, সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক বাসুদেব সিংহ, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক অসীম কুমার দাশ সোনা, যুব ঐক্য পরিষদের আহবায়ক অমিত কুমার ঘোষ, ছাত্রঐক্য পরিষদের সভাপতি সুজন বিশ^াস, প্রদ্যুত ঘোষ, রায় দুলাল চন্দ্র এবং প্রবীর পোদ্দার প্রমুখ।

মেজর জেনারেল সিআর দত্ত(বীর উত্তম), রঞ্জন কর্মকার এবং নেপালে ভয়াবহ বন্যার নিহতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। এছাড়া প্রেসিডিয়াম সদস্য নিমচন্দ্র ভৌমিকের রোগমুক্তি কামনা করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জিএম নূর ইসলাম -দৃঢচেতা এক সফল মানুষ্

আবুল কাসেম :  কোথা থেকে শুরু করব, বুঝতে পারছিনা। হতবিহবল মানুষের কাছ থেকে স্বভাবজাত লেখা বা বক্তব্য আশা করাটা দুস্কর হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নূর ইসলামের মৃত্যু সংবাদ পাই। মুহুর্তের মধ্যে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি।  সামেক হাসপাতালে তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে আগেই আশঙ্কা করা হয়েছিল,সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফেরার সম্ভাবনা কম।

জিএম নূর ইসলাম। সাতক্ষীরায় পত্রিকাজগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ব্যক্তিজগতে তিনি ছিলেন একজন সফল মানুষ। তবে তাঁর এই সফলতার পেছনে ছিল নিরবিচ্ছিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস। প্রায় ৪০ বছর আগে যশোরের নাভারণ থেকে আব্দুল খালেক তার মেজ ভাই গোলাম মোস্তফা ও ছোট ভাই নূর ইসলামসহ তাদের সন্তানদের নিয়ে সাতক্ষীরার সুলতানপুরে বসতি গড়েন। সেনাবাহিনীতে কর্মরত আব্দুল খালেকের সহায়তায় জিএম নূর ইসলাম সঙ্গীতা মোড় এলাকায় একটি মনোহরী দোকান করেন। মেয়েদের আলতা,স্নো,পাউডার আর রঙবেরঙের ভিউকার্ড বিক্রির মাধ্যমে তিনি কিছুটা স্বচ্ছল হলেন। কিন্তু প্রকৃতি যাকে ডাকে আরও বৃহ সরোবরে ঝাপ দেওয়ার জন্য ,তিনি কি কুযোর মধ্যে সাতার কাটতে পছন্দ করবেন! মনোহরী ব্যবসাটা ঠিক মনোপুত হলোনা তাঁর। বাস টার্মিনাল এলাকায় দোকান নিয়ে পত্রিকা বেঁচা শুরু করলেন তিনি। আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার ডিজিটাল প্লাটফর্মের তরুণ-তরুণীরা ভাবতেই পারবেননা, ২ দশক আগে প্রিন্ট পত্রিকার দাপটের কথা। দেশের যত নামী-দামি পত্রিকা রয়েছে, সাতক্ষীরায় তার প্রধান এজেন্ট জিএম নূর ইসলাম। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, তিনি ব্যবসাসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা দেখিয়েছেন। পত্রিকার হকাররাও তাঁর বেঁধে দেওয়া শৃঙ্খলার বাইরে যেতে পারতেননা। পুরো সাতক্ষীরা জেলায় তিনি হয়ে উঠলেন পত্রিকার এজেন্সির ক্ষেত্রে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম। ঢাকা থেকে প্রকাশিত কোনো পত্রিকা বের হলে সার্কুলেশন ম্যানেজারদের মনে যার নামটাই প্রথমে আসত,তিনি হলেন জিএম নূর ইসলাম।

দৈনিক দৃষ্টিপাত। নূর ইসলামকে সুপরিচিত করেছে এই পত্রিকাটি।  ২০০১ সালের শেষের দিকে এই পত্রিকাটি তাঁর সম্পাদনায় বের হয়। সার্কুলেশন ক্যাপাসিটির কারণে পত্রিকাটির প্রচার সংখ্যা ছিল ব্যাপক। জানা যায়,সারা রাত প্রেসে কাজ করার পর পত্রিকা ব্যান্ডেল করে গাড়ীতে তুলে দিয়ে বাসায় তিনি যখন যেতেন,তখন পূব আকাশে সূরযের লাভ আভা ফুটে উঠত। একদিন-দুইদিন নয়,বছরের পর বছর তিনি পত্রিকাটিকে এভাবে সন্তানসম লালন-পালন করে হৃষ্টপুষ্ট করে তারুণ্যে পৌঁছে দিয়েছেন। পত্রিকার নামে নামকরণকৃত তাঁর কাশেমপুরস্থ (মেহেদীবাগ) বাড়িতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে প্রস্তুতকৃত দৃষ্টি পিউর ড্রিংকিং ওয়াটারও বেশ সফলতা দেখিয়েছিল।

মসজিদে কুবা। মেহেদীবাগে অবস্থিত এই মসজিদটি শুধু জেলার মধ্যে নয়,সারা দেশের মধ্যে অনন্য একটি মসজিদ। যথার্থই এর নাম-ইসলামি সংস্কৃতি ও সেবা কেন্দ্র। ইসলামিক বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগীতা,মেডিকেল ও ডেন্টাল ক্যাম্পসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মসজিদটি। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার-মসজিদ শুধু নামাজ পড়ার জন্য নয়,সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ড পরিচালিত হওয়াও দরকার এখান থেকে।

আন্তর্জাতিক ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসান বাবুর সঞ্চয়কৃত অর্থ দিয়ে মেহেদীবাগে মসজিদটির জায়গা কেনা হয়। পরে মসজিদটি প্রতিষ্ঠায় যাদের অবদান অনস্বীকারয,জিএম নূর ইসলাম তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি আমৃত্যু মসজিদটির সভাপতি ছিলেন। এছাড়া জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমে তিনি বিশিষ্ট নাগরিকদের একই প্লাটফর্মে এনে  সাতক্ষীরার উন্নয়নে সচেষ্ট ছিলেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সৃষ্ট অনাকাঙ্খিত ঘটনার আগে-পরে ইসলাম ভাই আমাদের সাথে ছিলেন। এর আগে তাঁর সাথে অতটা নিবিড় সম্পর্ক আমার ছিলনা। মাত্র ২ বছরে আমি তাঁর দৃড়তা দেখেছি। কথা ও কাজে তিনি এক কথার লোক-এমন নমুনা বহুবার দেখেছি। সাংবাদিকতার নামে অসদুপায় অবলম্বন-এমন নজির ইসলাম ভাইয়ের মধ্যে কখনো কেউ দেখেনি। অনেকে বলতেন-ইসলাম ভাই একগুয়ে মানুষ। আমার মনে হয়েছে-একগুয়েমিতার মধ্যে যদি সততা ও আদর্শ থাকে,তবে তা বহুরুপী মানুষের চেয়ে হাজারগুন ভালো।

স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তাঁর মধ্যে খুবই অসহায়ত্ব দেখা যেত। মানষিক ও শারীরিকভাবে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। স্ত্রী সম্পর্কে তিনি প্রায়ই বলতেন-জীবীত থাকাকালে তাঁদের মধ্যে কোনদিন মনোমালিন্য হয়নি।  কিছুদিন বেঁচে থাকলে তিনি হয়ত সাতক্ষীরার উন্নয়নে আরও অবদান রাখতে পারতেন। কিন্তু সেটা আর হলোনা। নিজ বাসভবনে পাচিলের পাশে প্রিয়তমা স্ত্রীর পাশে চিরদিনের জন্য সমাহিত হলেন তিনি।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
বিশ^জিৎ সাধুর ভোগ দখলীয় সম্পত্তি দখল চেষ্টার প্রতিবাদে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের বিবৃতি

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি বিশ^জিৎ সাধুর দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় পাটকেলঘাটা শাকদাহ মৌজায় ৪শতক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের পায়তারা চালাচ্ছে একটি চক্র। উক্ত সম্পত্তি ১৯৯২ সাল থেকে তিনি ভোগ দখলে রয়েছে। এবিষয়ে আদালতের ১৪৫ ধারায় আবেদন করলে আদালত ৮/৭/২০২৬ তারিখে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পাটকেলঘাটা থানাকে নির্দেশ দেন।

কিন্তু আদালতের সে নির্দেশ অমান্য করে ২৬/৮/২০২৬ তারিখ সকাল ১০টায় সরুলিয়া গ্রামের রকিব সরদার, শেখ আজিজুল ইসলামসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল উক্ত সম্পত্তিতে রাখা বালি ছড়িয়ে দিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। আইন আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দীর্ঘদিনের ভোগ দখলীয় সম্পত্তি দখলের চেষ্টা কোনভাবেই কাম্য নই। এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন,

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সুধাংশু শেখর সরকার, জেলার সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীল, খ্রিষ্টান এসোসিয়েশন সাতক্ষীরার সভাপতি স্বপন বৈরাগী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সাতক্ষীরা সদরের সভাপতি নিত্যানন্দ আমিন, সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব সিংহ,জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক অসীম দাশ সোনা, জেলা যুব ঐক্য পরিষদের আহবায়ক অমিত ঘোষ, জেলা ছাত্রঐক্য পরিষদের সভাপতি সুজন বিশ^াস, সদস্য সাগর চৌধুরী, রুদ্র রায়সহ অন্যরা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest