দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় ৬ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত জালগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দোকান মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহার নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাম।
অভিযান চলাকালে পারুলিয়া বাজারের বিভিন্ন জাল ও মৎস্য খাদ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে তদারকি করা হয়। এ সময় একটি জালের দোকান থেকে প্রায় ৬ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জালগুলো আগুন দিয়ে বিনষ্ট করা হয় এবং দোকান মালিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এদিকে, অভিযানের সময় মৎস্য খাদ্য বিক্রেতাদের লাইসেন্স, পণ্যের মান ও বিধি-বিধান মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি : সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে ফের একটি হত্যা মামলায় শোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডলের আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অনাথ মিত্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে দু’দফা শুনানীর পর তাকে শোন এরেন্ট দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যশোর পিকনিক কর্নারের সামনে সংঘটিত ঘটনায় ২০২৪ সালে সাতক্ষীরা আদালতে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, সাতক্ষীরা সদর থানায় দন্ডবিধির ৪৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ ধারায় ১৪ নং মামলা রেকর্ড করা হয়। যার জিআর নং ৪০৩/২৪। এই মামলার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গত ২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নং ২৫, তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ধারা: ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ডি) মামলার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ১ জুন ২০২৫ তারিখে পুনরায় তাকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নং ৪৪, তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ জিআর ৯৬/২৫ ধারা- ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৪৪৮/৪৩৬/৪২৭/
সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য এডভোকেট আল মাহামুদ পলাশ জানান, গত ৩ জুন ২০২৬ মহামান্য হাইকোট সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে সর্বশেষ মামলায় জামিন প্রদান করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিম কোটের আ্যাপিলেট ডিভিশনের চেম্বার আদালতে জামিন স্থগীতের আবেদন জানালে নো-অর্ডার হয়। গত ১০ জুন ঐ মামলায় জামিননামা সম্পাদনের পর ১৩ জুন তাঁকে পুনরায় জিআর ৩৯৯/২৪ ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ দন্ডবিধি মামলার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে শোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়।
এডভোকেট পলাশ আরো জানান, গত ২৫ জুন ২০২৬ সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে জিআর ৩৯৯/২৪ মামলায় অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে তাঁকে পুনরায় জিআর ৪০২/২৪ ধারা ৩৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ দন্ডবিধি মামলার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে শোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়। তিনি জানান, গত ৯ জুলাই ২০২৬, সাতক্ষীরা দায়রা জজ আদালত লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে জিআর ৪০২/২৪ মামলায় অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্র জানায়, সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে সাতক্ষীরা থানার মামলা নং ১৪, তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, জিআর নং ৪০৩/২৪ ধারা- দন্ডবিধির ৪৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ মামলার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে সোমবার তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এ মামলার বাদী সাতক্ষীরা সদর থানার কাশেমপুর গ্রামের মৃত নুর আলী সানার ছেলে মোঃ ইমদাদুল হক। সাতক্ষীরা তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী গত ২৮ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে সাতক্ষীরা ১ নং আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের আদেশে পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগটি এফআইআরভুক্ত করা হয়।
মামলায় বাদী জানায়, তার ভাই শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী। অপরদিকে ১ থেকে ৬ নং আসামী পুলিশে কর্মরত এবং অন্যান্য আসামীরা আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডার। ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে এজাহারনামী ৩২জন আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন ৩টি কালো মাইক্রোবাস যোগে বাদীর ভাই শহিদুল ইসলাম এর বাড়ীতে আসে এবং তাকে জোরপূর্বক টানা হেছাঁড়া করে মাইক্রোতে সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে গভীর রাতে থানা থেকে যশোর পিকনিক কর্ণারের সামনে নিয়া যায়। সেখানে ১/২ নং আসামীর নির্দেশে ৩/৪/৫/৬ নং আসামী ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে গুলি করে। ভিকটিম শহিদুল ইসলামকে বুকে পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির আঘাতে ঝাঝরা করে হত্যা করে লাশ পিকনিক কর্ণানের সামনে ফাঁকা স্থানে রেখে চলে যায়।
মামলায় বাদী আরো জানান, বিষয়টি তৎকালীন থানায় ইউডি মামলা রুজু পূর্বক ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়া ভিন্ন খাতে প্রভাহিত করা হয়। লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের ঘটনা হলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ঘটনাটি ধামা চাপা দেন।
ভিকটিম শহিদুল ইসলাম এর পরিবার পক্ষ তৎকালীন সময় হত্যা মামলা করার জন্য সাতক্ষীরা সদর থানায় গেলে থানা মামলা নিতে অস্বীকার করে এবং বাদীকে মৃত্যুর হুমকি দেখায়। বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় কাগজপত্র সংগ্রহ সাপেক্ষে স্বাক্ষীদের সাথে আলোচনা করে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
অনলাইন ডেস্ক : দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কদিন আগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি।’
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ যখন হয়েছিল, দল নির্বিশেষে সকলে মিলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। এইমাত্র ক’দিন আগের কথা, আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। সকল শ্রেণি-পেশা, সকল ধর্ম-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসে এই দেশটাকে হটিয়েছে। তার মানে আমরা সকলে মিলে যদি কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য, মানুষের জন্য যদি ভালো কাজগুলো করি, তাহলে সকলে মিলে উপকৃত হবো।’
সোমবার বরিশালের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী জনসাধারণের প্রতি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বৃক্ষরোপণ শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা সরকারের একার দায়িত্ব নয়, সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, আজকে বৃক্ষরোপণের দিনে আমরা সকলে মিলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই— সকলে মিলে দেশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখব, ঠিক রাখব। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে চেষ্টা করব আমাদের আশেপাশের এলাকা, আমাদের ঘরবাড়ির আশেপাশের এলাকা, আমাদের অফিস আদালতের আশেপাশের এলাকা, আমাদের স্কুল-কলেজের আশেপাশের এলাকা, আমাদের হাসপাতালের আশেপাশের এলাকাগুলো প্রত্যেকে আমরা চেষ্টা করব সেখানের পরিবেশটা যাতে নষ্ট না হয়, পরিবেশটা যাতে সুন্দর থাকে, ভালো থাকে।’
ত্রিশ গোডাউনে সাগরদী খালের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাগরদী খালটি এই এলাকার জন্য নিশ্চয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা খাল। এই খালটার যত্ন করাও কিন্তু শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব না। এই খালটা যত্ন করা খালের দু’পাশে যে সকল মানুষ আছেন, তাদের সকলকে এই খালটার যত্ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই খালের পানির মধ্যে অনেক সময় অনেক প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনের কাগজ, টিস্যু পেপারসহ আরো বিভিন্ন জিনিস ভাসতে থাকে। অর্থাৎ আমরা যারা এখানে পার্কে আসি, হয়ত পানি খেলাম আর বোতলটা ফেলে দিলাম খালের মধ্যে। আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, এখানে আপনারা যারা উপস্থিত আছেন সকলের কাছে, আপনারা যখনই যার সাথে দেখা হবে— দয়া করে প্রত্যেককে বলবেন যে, খালের মধ্যে আমরা এগুলো ফেলবো না।’
সিটি কর্পোরেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে একটা ময়লা ফেলার বিন লাগানো আছে। সবাইকে আপনারা দয়া করে মাইকেও প্রচার করবেন, যারা এই খালের পাশে বসবেন, বিকেল বেলায় অনেকে বেড়াতে আসেন তারা যেন বিনের মধ্যে ময়লা ফেলেন। খাল পরিষ্কার রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেখুন, খালের অপরপাড়ে একটা পাইপ লাগানো হয়েছে, এটা কীসের পাইপ? যা খালের সাথে এসে যুক্ত হয়েছে। বাসা-বাড়ির ব্যবহারের পানি? সিটি কর্পোরেশনের কাছে আমি অনুরোধ করব, আপনারা বাসা-বাড়ির পানির ড্রেনেজ সিস্টেম করুন। কিন্তু পানি বা সুয়ারেজ লাইনের কানেকশনগুলো খালের মধ্যে না রাখাই ভালো। এগুলো থাকলে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়, পানি দূষিত হয়ে যায়। কাজেই আমাদের নিজেদের পরিবেশ আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের নিজের ঘর নিজেরা গুছিয়ে না রাখি, তাহলে ঘরটা যেমন ময়লা হয়ে যায়। ঠিক একইভাবে আমরা যদি আমাদের এলাকা, আমাদের এরিয়া, আমাদের পাড়া, আমাদের দেশ যদি আমরা নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, নিজেরা যদি পরিবেশের খেয়াল না রাখি, তাহলে ভুক্তভোগী আমরাই হবো। অন্য দেশের সুন্দর সুন্দর জায়গা নিয়ে আমরা আফসোস করব, কিন্তু নিজের দেশের জায়গাগুলো সব আমরা নষ্ট করে দেব।’
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ নেতৃবৃন্দরা খালের দুই পাড়ে একটি করে গাছ রোপণ করেন।
এসময় নেতাকর্মীরা স্লোগান ধরেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম, এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে, জিয়ার সৈনিক এক হও, এক হও।’
প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণের এই কর্মসূচি শেষ করে সার্কিট হাউসে গিয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন। বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর শেষ কর্মসূচি শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময়।
নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী রাকেশ মল্লিকের বিরুদ্ধে ঘুষ না দেওয়ায় লাইসেন্স বাতিল করার ঘটনায় আজ ১৩ জুলাই সোমবার খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ে তদন্ত হবে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারি কমিশনার আবু সাঈদ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের ‘প্রধান সহকারী’র গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য হয়। এর পরদিনই অর্থাৎ ২০ মে ২০২৬ তারিখে এক ভুক্তভোগী ঠিকাদার রাকেশ মল্লিকের বিরুদ্ধে তৎকালীন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, দাবি কৃত ঘুষের টাকা না দেওয়ায় রাকেশ মল্লিক তাকে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো যেদিন (২০ মে) রাকেশের বিরুদ্ধে ঘুষের লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে, ঠিক সেই দিনই জেলা পরিষদের মাসিক সভায় তাকে ‘প্রধান সহকারী’ পদে পদোন্নতি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরদিন, ২১ মে পদোন্নতি কমিটির সভা দেখিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে (মাত্র ২ দিনের মধ্যে) রাকেশ মল্লিকের পদোন্নতির প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
একটি গুরুতর লিখিত অভিযোগ পেন্ডিং থাকা অবস্থায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে একজন বিতর্কিত কর্মচারীর পদোন্নতি ফাইল প্রস্তুত ও প্রেরণ করা হলো, তা নিয়ে খোদ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে রাকেশ মল্লিকের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সফিকুল হক নামের অপর এক উচ্চমান সহকারী। নিয়মানুযায়ী শূন্য পদে সফিকুল হকেরই পদোন্নতি পাওয়ার কথা এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির লিখিত অভিযোগও নেই। অথচ এক রহস্যময় কারণে সফিকুল হককে দীর্ঘদিন যাবৎ সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা হয়েছে। সফিকুল হক তার বরখাস্তের বিষয়ে অনেক আগেই লিখিত জবাব দাখিল করলেও জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ তা নিষ্পত্তির কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের এই নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনে আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের দোসর, বিতর্কিত ও ঘুষখোর কর্মচারী রাকেশ মল্লিকের এই অবৈধ পদোন্নতি প্রস্তাব অবিলম্বে বাতিল করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে, জেলা পরিষদের কাজের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে তাকে অনতিবিলম্বে সাতক্ষীরা থেকে অন্যত্র বদলি করার এবং বঞ্চিত সিনিয়র কর্মকর্তা সফিকুল হকের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ##
প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়াজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ,ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার,অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ, বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, যানজট নিরসনে বাস থামার স্থান চিহিৃতকরণ,মাদকবিরোধী অভিযান ব্যবস্থা জোরদারকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সভায় পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো: আশরাফুল আলম, সিভিল সার্জন আব্দুস সালাম,জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল,সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান,জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহীন, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়,জলাবদ্ধতায় জেলায় ৩৮টি প্রাইমারি স্কুল বন্ধ রয়েছে। অতিবর্ষণে ৬ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া ১শ’ ২৭টি মাছের ঘের ভেসে গেছে,যার আনুমানিক ্ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা। তবে সাতক্ষীরা জেলায় এখন বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়। আগামীতে দুর্যোগ এলে তা মোকাবেলায় সম্পুর্ণ প্রস্তুত জেলা প্রশাসন।
স্বাস্থ্য ডেস্ক : দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৮৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫৩ জনে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৭০২ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৬০১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে মোট ১৩ হাজার ৪১০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মোট ৯৩ হাজার ৪৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৯ হাজার ৭৬২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাম প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আশাশুনি প্রতিনিধি: “সবাই মিলে সচেতন হই, জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ ও প্রতিহত করি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আশাশুনিতে…
অনলাইন ডেস্ক : দেশের ২৯ হাজারেরও বেশি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর…
অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা করতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো…