সর্বশেষ সংবাদ-
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ম্যারাথন র‌্যালিসাতক্ষীরায় জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানি দেয়ার সময় রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চে না ডাকায় নেতাদের ক্ষোভসাতক্ষীরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জামায়াতের বিক্ষোভধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে সংঘবদ্ধ ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী: শ্যামনগরে ড. মনিরুজ্জামানজুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শ্যামনগরে জামায়াতের গণমিছিল ও বিক্ষোভজুলাই গণঅভ্যু্ত্থান দিবস উপলক্ষে সিলভার জুবিলি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলোচনাসভা : পুরস্কার বিতরণীজুলাই অভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণশ্যামনগরে ৩২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ : আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংসসাতক্ষীরায় ইজিবাইকের নির্বিঘ্নে চলাচল ও চালকদের হয়রানি বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপিউচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের ম্যারাথন র‌্যালি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার উদ্যোগে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় ম্যারাথন র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শহরের বাঙ্গালের মোড় সংলগ্ন আল কোরান একাডেমি চত্ত্বর থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে খুলনা রোড মোড়ে অবস্থিত শহীদ আসিফ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

ম্যারাথন র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সেক্রেটারি নুরুন নবী। এতে শহর শাখার নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে শিবির নেতারা বলেন, “সারাদেশে আমরা যে চিত্র দেখেছি, তা অবশ্যই পরিকল্পিত। যাতে মানুষের মন থেকে জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে যায়। আমরা বিশ্বাস করি, এই অপকর্মগুলো তারাই করেছে, যারা এ দেশের ৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় মেনে নিতে পারছে না।”

বক্তারা আরও দাবি করেন, “বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘মেধা না কোটা’ নীতির যথাযথ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। যে জাতি মেধার যথাযথ কদর ও মূল্যায়ন করবে না, সে জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারবে না।”

ম্যারাথন র‌্যালি শেষে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানি দেয়ার সময় রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চে না ডাকায় নেতাদের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মানি দেয়ার সময় রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চে না ডাকায় জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠান শেষ না করেই দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা থেকে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে সম্মানী দেয়ার সময় তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করে সভাস্থল ত্যাগ করেন। যদিও জেলা প্রশাসক তা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, কেউ অনুষ্ঠান ত্যাগ করেননি, সবাই শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন।

সভা থেকে এসময় ৪ জন শহিদ পরিবারের মাঝে মাথাপিছু ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং আহতদের মাঝে মাথাপিছু ৫০০ টাকার প্রাইজবন্ড প্রদান করা হয়। ৪ জন শহীদ পরিবারসহ সর্বমোট ১০১ জনের মাঝে এ সম্মানী প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহবায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল ও সেক্রেটারি মাওঃ আজিজুর রহমানসহ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৪ জন শহিদ পরিবার ও আহত ৯৭ জন জুলাই যোদ্ধাকে সম্মানি প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বক্তব্য শেষ করার পর পুলিশ সুপার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলমকে মঞ্চে ডেকে নেয়া হয়। সম্মানি বিতরণের সময় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার দুইজন মঞ্চে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের উক্ত সম্মানী উপহার বিতরণ করেন। তবে সেখানে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কাউকেই এ সময় মঞ্চে ডাকা হয়নি। আমন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে এভাবে উপেক্ষা করায় তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসস্তোষ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন।

এ ব্যাপারে জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল বলেন, মঞ্চে না ডাকার ঘটনা সঠিক। যেকারনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সকলেই চলে এসেছিলেন।
জেলা বিএনপির আহবায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন, এঘটনার পর জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব সাহেবের নেতৃত্বে আমরা সকলেই অনুষ্ঠান থেকে চলে এসেছি।

তবে, নেতাদের ক্ষোভ ও অনুষ্ঠান ত্যাগের বিষয়টি অস্বীকার করে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানান, রাজনৈতিক নেতারা কেউ অনুষ্ঠান ত্যাগ করে যাননি, সবাই শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ৪ জন শহীদ পরিবারের কাছে আমি এবং পুলিশ সুপার মহোদয় সম্মানি তুলে দিয়েছিলাম। আর আহতদের মাঝে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা সম্মানী তুলে দিয়েছেন।
এদিকে, জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন এই আয়োজনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে যথাযথ সম্মান না দেয়া এবং একতরফাভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনার ঘটনায় সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা পৌর ও সদর শাখার উদ্যোগে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শহরের শহীদ আসিফ চত্বর (খুলনা রোড মোড়) এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মশাররফ হোসেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের জেলা সহকারি সেক্রেটারী প্রভাষক ওসর ফারুক, জেলা অফিস সেক্রেটারী রুহুল আমিন, শিবিব সভাপতি মেহেদি হোসেন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও পৌরজামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, সদর সেক্রেটারী মাওলানা হাবিবুর রহমান, পৌরসহকারী সেক্রেটারী এড আবু তালেব, ছাত্র নেতা আব্দুর রহিম, মাওরানা মনিরুল ইসলাম ফারুকি প্রমুখ।

বক্তারা জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের চেতনায় দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহীদ আসিফ চত্বর থেকে বের হয়ে সাতক্ষীরা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পাক এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে সংঘবদ্ধ ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী: শ্যামনগরে ড. মনিরুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিনিধি: ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, একটি সংঘবদ্ধ ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত র‌্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পথসভা, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সুলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মনিরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ আলোচনা শেষে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদে উপনীত হয়েছে এবং ৩৩টি রাজনৈতিক দল এতে স্বাক্ষর করেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সংসদে এক ধরনের বক্তব্য দিয়ে বাইরে এসে সাধারণ মানুষকে অন্যভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে জান্নাতের টিকিটের মতো নানা আবেগী বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ড. মনিরুজ্জামান আরও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষের সঙ্গে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রও মেনে নেওয়া হবে না।
একটি রাজনৈতিক দল ও তাদের মিত্রদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় শ্যামনগরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নবগঠিত উপজেলা বিএনপির কমিটির সফলতা কামনা করেন।
সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আবু সাইদ, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, গোলাম আলমগীর, গাজী শহিদুজ্জামান, গাজী শাহ আলম, আবুল খায়ের মল্লিক, আজিজুল হক, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ লিয়াকত আলী বাবু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুর, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজ আল আসাদ কল্লোল, উপজেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক নূর জাহান পারভীন ঝর্ণা, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুজ্জামান, সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম আবুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণআন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শ্যামনগরে জামায়াতের গণমিছিল ও বিক্ষোভ

শ্যামনগর প্রতিনিধি : জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গণভোটের রায়, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গণমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্যামনগর উপজেলা শাখা।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৪টায় শ্যামনগর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শ্যামনগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর মাইক্রো স্ট্যান্ডে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়। আয়োজকদের দাবি, মিছিল ও সমাবেশে পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফা।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াত নেতা অধ্যাপক আব্দুল জলিল ও মাওলানা আব্দুল মজিদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম বারী, মাওলানা মঈনুদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক ফজলুল হক, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রেজাউল ইসলাম, অধ্যক্ষ সাইদি হাসান বুলবুল, মাওলানা আমিনুর রহমান, অধ্যাপক গাজী আব্দুল হামিদ এবং অধ্যাপক মহসিন আলম সহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমরা ও বিএনপিসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিলাম। তবে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের রক্তদান ও জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়েই ৫ আগস্টের বিপ্লব চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করে। এ বিপ্লব কোনো একক দলের নয়; এটি ছাত্র-জনতা ও দেশের মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফল।”

তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পরিবর্তন না এলে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি হতো না। আমরা দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাই এবং দেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যমুক্ত দেখতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “এই আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ার পর দল তাঁকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও লুণ্ঠনকে সমর্থন করে না।”

বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “যারা উগ্রবাদ ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়, তারা আমাদের ধৈর্যকে দুর্বলতা মনে করবেন না। তবে আমরা সংঘাত চাই না; শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে চাই।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জুলাই গণঅভ্যু্ত্থান দিবস উপলক্ষে সিলভার জুবিলি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলোচনাসভা : পুরস্কার বিতরণী

জুলাই গণঅভ্যু্ত্থান দিবস উপলক্ষে সিলভার জুবিলি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলোচনাসভা, রচনা, চিত্রাংকন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় বিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানার্জি।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এম বেলাল হোসাইন।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রাবেয়া খাতুন, সানজিদা খাতুন, টুম্পা রানী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদা পারভীন,শরিফা লায়লাতুননেছা, শাহিনা সবনম, তয়ৈবাতুন নেছা, বাসনা মজুমদার,সুপর্ণা দাশ,সুদীপা বাছাড়।

বক্তারা বলেন ছাত্রদের তীব্র আন্দোলনের মুখে একটি সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আজকে একটি বিজয়ের দিন উদযাপন করা নয়; বরং এই দিনটি আমাদের সামনে রেখে গেছে এক বিরাট দায়বদ্ধতা। যে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্নে ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল, সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার রক্ষা করাই হোক আমাদের আজকের প্রধান শপথ।

আলোচনাসভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
জুলাই অভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। কারণ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়; এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি প্রায়ই একটি কথা বলি— ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। জনগণ যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ভুলে যায়নি, একইভাবে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় শহীদদেরও কখনো ভুলবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ হামলা, নিপীড়ন ও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ঘরছাড়া ছিলেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু শহীদ হন এবং কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ আহত হন।

তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়েও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছে। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা ও বর্বরতা সভ্য পৃথিবীতে বিরল। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন ও অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের এই দুঃশাসনের তুলনা কেবল স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে তিন বছরের শাসনের সঙ্গে করা যায়।

তিনি বলেন, এমন বাস্তবতায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে যেমন তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস তুলে ধরবে, তেমনি বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের প্রকৃত চেহারাও উন্মোচন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্মৃতি জাদুঘর জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাদুঘরটি শুধু ২০২৪ সালের নৃশংস ঘটনার স্মারক হয়ে থাকবে না; বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্কও তুলে ধরবে। একই সঙ্গে শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসও সেখানে সংরক্ষিত থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসন মেনে নিতে পারেনি। তাদেরই পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। এসব ইতিহাসও ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে।

জাদুঘরে জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পরিচয় ও জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াললিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক এবং ডিজিটাল উপাদান সংরক্ষণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি যারা ব্যক্তিগত স্মারক, দলিল, আলোকচিত্র ও শিল্পকর্ম জাদুঘরে দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না; বরং ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যতে বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রতিটি বিষয়ে যথাসম্ভব সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাদুঘরের তথ্য বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষায় উপস্থাপন করা হলে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনার বিচার পর্যায়ক্রমে হবে। কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার নয়; আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই প্রতিটি অপরাধের বিচার জরুরি বলে সরকার মনে করে।

তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজও সরকার শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ কাজ শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের জনগণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত, পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কি না, সে বিষয়টি ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক, জাদুঘর বিশেষজ্ঞ, শিল্পী, সংগ্রাহক, কারিগর, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না’— এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
শ্যামনগরে ৩২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ : আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধূমঘাট শিলতলা বিল, মটারচক বিল ও সংলগ্ন খালে অভিযান চালিয়ে ৩২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে শ্যামনগর উপজেলা মৎস্য অফিস। পরে জব্দকৃত জালগুলো ধূমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌহিদ হাসানের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মৎস্য অফিসের ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট মো: মুজিবুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও সুকুমার। অভিযানে সহযোগিতা করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য পুলিশ, গ্রীন কোয়ালিশন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা সহ বিভিন্ন সংগঠিত জনসংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গ্রামবাসী।

অভিযান চলাকালে ধূমঘাট শিলতলা বিল, মটারচক বিল ও আশপাশের খাল থেকে মোট ৩২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে পরিবেশ ও দেশীয় মাছের প্রজনন সংরক্ষণের স্বার্থে জব্দকৃত জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: তৌহিদ হাসান বলেন,চায়না দুয়ারি জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহার করলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শ্যামনগরের সব এলাকায় এ ধরনের নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিতা রানী বলেন,আমাদের এলাকায় এই উদ্যোগটি খুবই প্রয়োজন ছিল। দেশীয় মাছের প্রজননের সময় এই জলদানব চায়না দুয়ারি জাল অপসারণ করায় আমরা অত্যন্ত খুশি। এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলে খাল-বিলে দেশীয় মাছের সংখ্যা আবারও বাড়বে বলে আমরা আশা করি। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহার জলাশয়ের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। উপজেলা মৎস্য অফিসের এ ধরনের অভিযান দেশীয় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest