সর্বশেষ সংবাদ-
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিভে গেল সাতক্ষীরার সাজু ও রেবতির প্রাণ : বাকরুদ্ধ পরিবারসাতক্ষীরায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি  কলকাতায় আগুনে পুড়ে সাংবাদিকের মৃত্যুতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শোক৪০০ বছরের শ্যামসুন্দর মন্দির রক্ষায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগ : হবে বৈজ্ঞানিক প্রি-ডকুমেন্টেশনদেবহাটায় শিশুশ্রম প্রতিরোধে শেয়ারিং মিটিংসাতক্ষীরায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে সার্জিক্যাল ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ : ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসাতক্ষীরায় এনজিও পরিচালন ব্যবস্থায় সুশাসন জোরদারকরণ শীর্ষক কর্মশালাসাতক্ষীরায় সরকার বিরোধী মিছিলের প্রস্তুতিকালে ৪ যুবলীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তারদেবহাটায় গাঁজাসহ ২ জন ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ৩ জন আটকবাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের সাথে বাপা নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিভে গেল সাতক্ষীরার সাজু ও রেবতির প্রাণ : বাকরুদ্ধ পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি :
চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসিমুখে ভিটেমাটিতে ফেরার কথা ছিল তাদের। অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয়জনেরা। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। ফেরার অপেক্ষায়  তাদের নিথর দেহ। 

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন সাতক্ষীরার দুই সন্তান—মোঃ আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। 

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে মৃত্যুর খবর সাতক্ষীরায় পৌঁছাতেই এক বুক শোক আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো জেলার বাতাস।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের ছোট ছেলে। রেবতি সরকার একই ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া ভবেশ সরকারের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কোমরের তীব্র ব্যথায় দীর্ঘদিন ভুগছিলেন চার ভাইয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সাজু। উন্নত চিকিৎসার আশায় চার-পাঁচ দিন আগে ভারতে যান তিনি। বুধবারই চিকিৎসা শেষে প্রিয় স্বজনদের কাছে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই কলকাতার হোটেলের বিষাক্ত ধোঁয়া কেড়ে নেয় সাজুর প্রাণ। অবিবাহিত সাজু এলাকায় একজন সৎ, মিষ্টভাষী ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে ভীষণ প্রিয় ছিলেন। তার অকালমৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে শহরের বাসভবন ও গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম; স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, একই উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা নিহত রেবতী সরকারের বাড়িতেও নেমে এসেছে অন্ধকার। রেবতীর একটি ছেলে এবং একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
তার এমন ঠিক মৃত্যুতে প্রতিবেশীরাও।

জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে (রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে) মির্জা গালিব স্ট্রিটের চারতলা ওই হোটেলটিতে আগুন লাগে। সে সময় ভবনে অন্তত ২৫ জন বাংলাদেশি অতিথি অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক ধারণা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের কাছেই হোটেলটি হলেও গলিপথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় অতিথিরা সময়মতো বের হতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবন বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, আগুনের শিখার চেয়েও বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়েই বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

হৃদয়বিদারক এই অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার সাজু ও রেবতী ছাড়াও কুষ্টিয়ার এক সংবাদকর্মী ও তার পরিবারের চার সদস্যসহ মোট ৯ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ বলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইতোমধ্যে উভয় পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছে। এছাড়া কোলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় সরকারের সাথে যোগাযোগ করে নিহদের মরদেহ দেশের আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি  
নিজস্ব প্রতিনিধি : বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকালে সাতক্ষীরা পরিবহন কাউন্টার এলাকা থেকে উৎসব মুখর পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে খুলনা রোড মোড় শহীদ আসিফ চত্বরে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এসময় বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এডভোকেট কামরুজ্জামান ভুট্টোর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শেখ শরিফুজ্জামান সজীব এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তারিকুল হাসান। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি সোহেল আহম্মেদ মানিক,জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন,আসাদুজ্জামান খোকা, মনজুরুল মোরশেদ মিলন, খালিদ হাসান সুমন, তানভীর মুজিদ, মহসিন আলম, মোখলেসুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোঃ মাসুম বিল্লাহ, সদর থানা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম সরোয়ার, সদস্য সচিব জাকির হোসেন আপিল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আলী আহসান খান হাবলু , সদস্য সচিব শেখ আজিজুর রহমান সেলিম।
এসময় সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম হিমুসহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সকল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলী হাসান খান হাবলু ও সদস্য সচিব শেখ আজিজুর রহমান সেলিম ‘র নেতৃত্বে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা ও ব্যানার সহকারে নিউমার্কেট মোড়ে সমবেত হয়। পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৯ টি ওয়ার্ডসহ জেলার সকল উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করে।
0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
কলকাতায় আগুনে পুড়ে সাংবাদিকের মৃত্যুতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শোক

ভারতের কলকাতার আবাসিক হোটেলে মঙ্গলবার রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাঁদের তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর মো. আকরাম আলিসহ (৬৪) কয়েকজন বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আবুল কাসেম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক এম. শাহীন গোলদার, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, সাহিত্য,সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাসুদুজ্জামান সুমন, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, আবু তালেব, কাজী জামালউদ্দিন মামুন, আব্দুস সামাদ, আসাদুজ্জামান সরদার। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
৪০০ বছরের শ্যামসুন্দর মন্দির রক্ষায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগ : হবে বৈজ্ঞানিক প্রি-ডকুমেন্টেশন

নিজস্ব প্রতিনিধি: অবশেষে আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামের ঐতিহাসিক শ্যামসুন্দর মঠ-মন্দির। দীর্ঘদিনের অযত্ন-অবহেলা ও জরাজীর্ণতা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে মন্দিরটির করুণ অবস্থা ও সংরক্ষণের দাবি তুলে ধরার পর এবার দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। প্রাথমিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পর মূল সংস্কারকাজ শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে বুধবার সরেজমিনে মন্দিরটি পরিদর্শনে আসেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ঐতিহ্যবাহী শ্যামসুন্দর মন্দিরটি পরিদর্শনে অংশ নেন খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি গবেষক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শাপলা সিংহ, সমাজকর্মী ও সাংবাদিক মিলন বিশ্বাস, পরিবেশ সাংবাদিক মো. হোসেন আলী, মন্দিরের সেবায়েত সুবপ্রসাদ চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পরিদর্শনকালে বিশেষজ্ঞরা মন্দিরটির বর্তমান কাঠামোগত অবস্থা, দেয়াল, কার্নিশ, পোড়ামাটির অলংকরণ ও স্থাপনার বিভিন্ন জরাজীর্ণ অংশ ঘুরে দেখেন এবং সংস্কারের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

পরিদর্শন শেষে খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, শ্যামসুন্দর মন্দিরটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি। মন্দিরটির প্রাথমিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে ঐতিহ্য রক্ষায় কোনো ভুলভ্রান্তি এড়াতে মূল কাজের আগে ‘প্রি-ডকুমেন্টেশন’ বাধ্যতামূলক। প্রাচীন কোনো অবকাঠামো সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রি-ডকুমেন্টেশন ছাড়া কাজ করলে মূল রূপ ও ঐতিহ্যিক উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বড় ঝুঁকি থাকে। তাই বিশেষজ্ঞ টিম এনে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিস্তারিত নকশা ও উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে, যার পরপরই আমরা পূর্ণাঙ্গ সংস্কার শুরু করব।

তিনি আরও জানান, আগামী অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিয়ে মন্দিরটির স্থায়ী সংস্কার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি স্থাপনার গায়ে জমে থাকা পুরোনো গাছ ও পরগাছা অত্যন্ত সযত্নে ও ধীরে ধীরে অপসারণ করা হবে, যাতে মূল কাঠামোর কোনো ক্ষতি না হয়।

অন্যদিকে, পরিদর্শনের সময় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি গবেষক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শাপলা সিংহ স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি ডিজিটাল সংরক্ষণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এখানে কেবল পূর্বে থাকা মূল ডিজাইন ফিরিয়ে আনলেই হবে না, বরং যেসব প্রয়োজনে একসময় এই সংস্কৃতির প্রচলন হয়েছিল সেই অতীত ইতিহাসকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। উপকূলীয় নোনা এলাকায় আর্দ্রতার কারণে ভবনটির ক্ষতি হচ্ছে। তাই শুধু ভবন সংস্কার নয়, ৬০ বছরের তদূর্ধ্ব প্রবীণ স্থানীয় অধিবাসীদের অভিজ্ঞতা ও মৌখিক ইতিহাস সংরক্ষণ করে একটি ‘ডিজিটাল আর্কাইভ’ তৈরি করা প্রয়োজন।

​তিনি আরও প্রস্তাব করে বলেন, দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য এখানে ডিওরোমা বা আলোকচিত্রের মাধ্যমে প্রাচীনকালের বিদ্যুৎহীন রাতের আলো-আঁধারির পরিবেশ কেমন ছিল, তা ফুটিয়ে তোলা যেতে পারে। যা ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য প্রাচীন মন্দির বা মসজিদ সংরক্ষণেও একটি মডেল হয়ে থাকবে।

এদিকে ​,সংবাদ প্রকাশের পর একের পর এক দ্রুত পদক্ষেপ এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও গবেষকদের পরিদর্শনে স্থানীয় বাসিন্দা, পূজারী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের হাওয়া বইছে।

মন্দিরের সভাপতি দেবপ্রিয় চৌধুরী ও সেবাইত সুবপ্রসাদ চৌধুরী সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন অবহেলা আর মাদকসেবীদের উপদ্ব্রেবে ঐতিহ্যটি ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। গণমাধ্যমে খবর আসার পর প্রাথমিক পরিষ্কারের কাজ হয়েছে, আর আজ পরিদর্শনের মাধ্যমে স্থায়ী সংস্কারের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মুখ দেখছে। এছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তা ও পবিত্রতা রক্ষায় দ্রুত সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জোর দাবি জানান মন্দিরের সেবায়েত সুবপ্রসাদ চৌধুরী ও স্থানীয়রা।

ইতিহাসবিদ সতীশ চন্দ্র মিত্র ও অধ্যাপক মো. আবু নসরের গ্রন্থ অনুযায়ী, ১৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দে হরিরাম দাশ (মতান্তরে দুর্গাপ্রিয় দাশ) প্রায় ৬০ ফুট উঁচু তিনতলা বিশিষ্ট এই শ্যামসুন্দর মন্দিরটি নির্মাণ করেন। মূল মন্দিরের পাশাপাশি এখানে দুর্গা ও শিব মন্দির এবং ‘জমির বিশ্বাসের পুকুর’ নামে ঐতিহাসিক দীঘি রয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সরাসরি পরিদর্শন, প্রি-ডকুমেন্টেশনের সিদ্ধান্ত এবং আগামী অর্থবছরে সংস্কার বাস্তবায়নের আশ্বাসে স্থানীয় বাসিন্দা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দ্রুত এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন ঘটে ঐতিহাসিক মন্দিরটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সচেতন মহল।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
দেবহাটায় শিশুশ্রম প্রতিরোধে শেয়ারিং মিটিং

দেবহাটা প্রতিনিধি: ‘শিশু শ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার দেবহাটায় শিশুশ্রম প্রতিরোধ বিষয়ক শেয়ারিং মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলার সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর অর্থায়নে এবং সুশীলন-এর বাস্তবায়নে দেবহাটা এরিয়া প্রোগ্রামের উদ্যোগে এ শেয়ারিং মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
৩নং সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কামরুল, জামায়াত নেতা জিয়াউর রহমান, দেবহাটা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক এমএ মামুন, প্রকল্পের এমএন্ডই স্পেশালিস্ট মো. শরিফুজ্জামান, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মো. মিজানুর রহমান, নিলাদ্রী বিশ্বাস, ইউপি সদস্য মোখলেছুর রহমান, নূর মোহাম্মাদ, রবিউল ইসলাম, নাজিমউদ্দীন, শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, ডা. নজরুল ইসলাম, আবুল হোসেন, কালাম সরদার, মোছা. সাজু পারভীন, রেহেনা খাতুন ও জুলেখা খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম একটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করে। শিশুদের শ্রমে না পাঠিয়ে তাদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বপ্নময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে শিশুশ্রমের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, শিশুদের শ্রম থেকে বিরত রেখে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিশুর অধিকার রক্ষায় পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আয়োজকরা জানান, শিশুশ্রম প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে সার্জিক্যাল ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ : ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি :  সাতক্ষীরায় লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে পরিচালিত ‘সাতক্ষীরা সার্জিক্যাল ক্লিনিক’-এ অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বুধবার দুপুর ৩টায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে অননুমোদিতভাবে ক্লিনিক পরিচালনার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ক্লিনিকের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

র‍্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিয়াদ জানান, কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র ও স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই ক্লিনিকটি চালানো হচ্ছিল—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি মো. আক্কাস হোসেন কে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অনাদায়ে ২ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ প্রদান করেন আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম।

জনস্বার্থে অননুমোদিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও র‍্যাবের এমন যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় এনজিও পরিচালন ব্যবস্থায় সুশাসন জোরদারকরণ শীর্ষক কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরায় বেসরকারি সংস্থাগুলোর সংগঠন এসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ (এডাব)-এর জেলা শাখার উদ্যোগে “এনজিও পরিচালন ব্যবস্থায় সুশাসন জোরদারকরণ” বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার শহরের কামালনগরস্থ লেকভিউ রিসোর্টে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত।

এডাব সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি ও পল্লী চেতনার নির্বাহী পরিচালক মোঃ আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এডাব কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের পরিচালক (কর্মসূচী)কাউসার আলম মুন্সি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এডাব সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদস্য সচিব ও উষা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ শামসুজ্জোহা। কর্মশালার সার্বিক সমন্বয় করেন এডাব খুলনা বিভাগের সমন্বয়কারী মোঃ রেজাউল করিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি এনজিওদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এনজিওসমূহ লক্ষণীয় অবদান রেখে চলেছে।”

তথ্যকে বর্তমান সময়ের মূল শক্তি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই তথ্যের যথাযথ আদান-প্রদান ঘটে। এনজিও পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত করতে এই সময়োপযোগী আয়োজন প্রশংসার দাবিদার। এনজিওগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়, সুশাসন চর্চা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে এডাব-এর এই উদ্যোগ জেলার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে।”

উক্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার এডাব তালিকাভুক্ত ২৬টি নিবন্ধিত এনজিওর প্রতিনিধিগণ অংশ নেন।

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest
সাতক্ষীরায় সরকার বিরোধী মিছিলের প্রস্তুতিকালে ৪ যুবলীগ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে আওয়ামী যুবলীগের চার নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে সাতক্ষীরা শহরের বাটকেখালী এলাকার চালতেতলা থেকে সদর থানা পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার জাহাজঘাটা গ্রামের আকবর আলী খানের পুত্র ভুরুলিয়া ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন, পরামন্দকাঠি গ্রামের মৃত মাহতাব উদ্দিনের পুত্র মৌতলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহীনুর ইসলাম, শ্রীরামপুর গ্রামের শাহাদাত হোসেনের পুত্র বিষ্ণপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক এবং কালিগঞ্জের ফরিদপুর গ্রামের আ: জলিলের পুত্র ফরহাদ নাঈম।

সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত বা অপতৎপরতায় লিপ্ত সংগঠনের কর্মীরা যাতে এলাকায় কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাটকেখালীর চালতেতলা এলাকা থেকে মিছিলের প্রস্তুতিকালে এই চারজনকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ##

0 মন্তব্য
0 FacebookTwitterGoogle +Pinterest